অস্ট্রেলিয়াকে 'বাংলাওয়াশের' হাতছানি টাইগারদের

একসময় যা ছিল কল্পনাতীত, আজ তা বাস্তবতার খুব কাছাকাছি। অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ জিতে ইতিমধ্যেই নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এখানেই থামতে রাজি নয় মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ২১ বছর পর অজিদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ের যে উৎসব শুরু হয়েছিল, আজ মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে 'বাংলাওয়াশ' করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে টাইগাররা।

গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণ এক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। ১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম প্রথম ওভারেই বিদায় নিলেও, দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত এবং সৌম্য সরকারের ৮৬ রানের জুটি দলকে শক্ত ভিত এনে দেয়। মাঝে দ্রুত কিছু উইকেট হারিয়ে ৫ উইকেটে পরিণত হলেও, তৌহিদ হৃদয় এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ঠান্ডা মাথার ব্যাটিং ৩৮ রান বাকি থাকতেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।

বল হাতেও বাংলাদেশের শুরুটা ছিল রূপকথার মতো। মাত্র ০ রানে অস্ট্রেলিয়ার ৩ উইকেট তুলে নিয়ে অজি টপ-অর্ডারকে ধ্বংস করে দেন মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ। ওয়ানডে ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ ঘটনা হিসেবে কোনো দল খাতা খোলার আগেই ৩ উইকেট হারায়। প্রথম পাওয়ারপ্লে-তেই ৩ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হন মোস্তাফিজ। শেষদিকে তাসকিন আহমেদের টানা দুই বলে ২ উইকেট শিকার অজিদের বড় সংগ্রহে বাধা দেয়। যদি বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেট হারাত, তবে ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়াত ২২০, যা তাসকিনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৯২ রানেই আটকে যায়।

সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার এমন ভরাডুবি ক্রিকেটবিশ্বকে চমকে দিয়েছে। অজিদের টপ-অর্ডার এতটাই ব্যর্থ যে তাদের ফর্ম নিয়ে বিচার করার সুযোগও পাচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। মিডল-অর্ডারের দৈন্যদশা কাটাতে গত ম্যাচে মার্নাস লাবুশেনকে ৭ নম্বরে নামানো হয়, যেখানে তিনি টানা ১৪ ইনিংস পর একটি ফিফটির দেখা পান। মূলত আট নম্বরে নামা জেভিয়ার বার্টলেটের ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে হাফ-সেঞ্চুরিতে ভর করে কোনোমতে লড়াকু পুঁজি পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। বল হাতেও বার্টলেট ও নাথান এলিস নতুন বলে কিছুটা ভীতি ছড়ালেও, বাংলাদেশের কাউন্টার-অ্যাটাকিং ব্যাটিংয়ের সামনে তারা পরাস্ত হয়েছেন।

চলতি সিরিজে নতুন ও পুরোনো—উভয় বলেই দুর্দান্ত সার্ভিস দিচ্ছেন তাসকিন আহমেদ। সকাল ১১টায় ম্যাচ শুরু হওয়ায় উইকেটের যে আর্দ্রতা ও সিম মুভমেন্ট থাকে, তা কাজে লাগিয়ে টানা দুই ম্যাচেই প্রথম ওভারে ম্যাথু শর্টকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে লম্বা স্পেলে বল করার অভিজ্ঞতা ওল্ড বল বা পুরোনো বলে তাকে দারুণ কার্যকর করে তুলেছে। শেষ ম্যাচেও একটি ‘পারফেক্ট ফিনিশ’ চান এই গতি তারকা।

বাংলাদেশ দলে ইনজুরি বড় একটি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ম্যাচে মাথায় বাউন্সারের আঘাত পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজের কনকাশনের কারণে রবিবারের ম্যাচে তার জায়গায় একাদশে ফিরতে পারেন রিশাদ হোসেন। এছাড়া নুরুল হাসান সোহান খেলবেন পিওর ব্যাটার হিসেবে, আর পেস ইউনিটের কাউকে বিশ্রাম দিলে একাদশে দেখা যেতে পারে শরিফুল ইসলামকে। ব্যাক-আপ হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে শেখ মাহেদী হাসানকে।

সিরিজের শেষ ম্যাচটি ‘ডেড রাবার’ হলেও বাংলাদেশ ওপেনার সৌম্য সরকার কোনো পরিবর্তনের পক্ষে নন। তার মতে, 'সিদ্ধান্ত যদি আমার হাতে থাকতো, তবে আমি একাদশে কোনো পরিবর্তন আনতাম না। আমরা একটা বড় দলের বিপক্ষে খেলছি। ৩-০ ব্যবধানে জেতাটা হবে বিশাল অর্জন, তাই আমাদের সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামা উচিত।'

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া সাধারণত একাদশে পাইকারি হারে পরিবর্তন আনে না, তবে পারফর্মারদের ব্যর্থতায় বাধ্য হয়েই কিছু পরিবর্তন আনতে পারে। অজি ব্যাটার মার্নাস লাবুশেন জানিয়েছেন তারা হোয়াইটওয়াশ এড়াতে মরিয়া, 'মাঠে গিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করতে চাই। দিনশেষে ৩-০ বা ২-১ যেটাই হোক, সিরিজ তো হেরেই গেছি। এটাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে। তবে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই নামবো।'

আজকের ম্যাচে সবচেয়ে বড় ভিলেন হতে পারে আবহাওয়া। ম্যাচ চলাকালীন মিরপুরের আকাশে বজ্রসহ বৃষ্টির বড় পূর্বাভাস রয়েছে, যা ম্যাচের ওভার কমিয়ে দিতে পারে বা খেলা পণ্ডও করতে পারে।