দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ সংঘর্ষ, একাধিক ইসরায়েলি যান ধ্বংসের দাবি হিজবুল্লাহর

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর দুটি বড় ধরনের স্থল অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ার দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। শনিবার (১৩ জুন) দিনভর চলা তুমুল লড়াইয়ে ড্রোন, রকেট ও কামান ব্যবহার করে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান ও যানবাহনের ওপর ১৯টি পাল্টা হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।

হিজবুল্লাহর দেওয়া তথ্যমতে, নাবাতিয়ে গভর্নরেটের কাফারতিবনিট এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণ ও ধোঁয়ার আড়াল নিয়ে ইসরায়েলি সেনারা গোপনে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল। হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তাদের পূর্বপরিকল্পিত এক ফাঁদে ফেলে। সেখানে শক্তিশালী বিস্ফোরক বিস্ফোরণ ও কামানের তীব্র গোলার মুখে পড়ে ইসরায়েলি সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।

একইভাবে, দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জউন শহরে ইসরায়েলি সেনারা ঢুকলে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা তাদের ওপর হামলা চালায়। রকেট ও বিভিন্ন অস্ত্রের মুখে ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। এছাড়া আবাবিল ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলের কয়েকটি সাঁজোয়া যান, একটি বুলডোজার এবং সামরিক কমান্ড সেন্টারও ধ্বংস করা হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি এই লড়াইয়ের পাশাপাশি আকাশেও নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা ইসরায়েলের একটি অত্যাধুনিক ‘হার্মিস ৪৫০’ ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে। এছাড়া মারুন আল-রাস ও আদাইসেহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সদ্য তৈরি করা অবস্থানগুলোতেও ড্রোন ও রকেট দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইসরায়েল কর্তৃক প্রতিনিয়ত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব দিতেই তারা এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা থামেনি। লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে চলা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৪৮৩ জন।

বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী লেবানন সীমান্তের ১০ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত ঢুকে পড়েছে, যা ২০০০ সালের পর তাদের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর অনুপ্রবেশ। সীমান্ত এলাকার বড় একটি অংশ এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি