রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করলো ব্রিটিশ বাহিনী

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টার সময় রাশিয়ার তেলবাহী একটি শ্যাডো ফ্লিট ট্যাংকার রোববার সকালে আটক করেছে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একথা জানিয়েছেন।

রুশ এই জাহাজটি আটক করতে ছয় ঘণ্টা ধরে অভিযান চালায় রাজকীয় নৌ কমান্ডো এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা। রাজকীয় বিমান বাহিনী (আরএএফ) এ অভিযানে সহায়তা করেছে।

আটক ট্যাংকারের নাম স্মির্টোস। জাহাজটিকে ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান চালায় ব্রিটিশ বাহিনী। তার পর পুরো জাহাজ নিজেদের কব্জায় নেয় তারা।

প্রতিরক্ষ দপ্তর জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালে জাহাজটিকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর উপর নজরদারি চালাচ্ছিল ব্রিটিশ বাহিনী।

সে সময়েই ইংলিশ চ্যানেলে ওই সন্দেহজনক জাহাজ দেখতে পেয়ে ব্রিটিশ বাহিনী সেটিকে ঘিরে ধরে অভিযান শুরু করে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার এই ঘটনাকে রাশিয়ার জন্য বড় ধাক্কা বলে কটাক্ষ করেছেন।

তিনি বলেন, “এই সফল অভিযান রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরেক আঘাত। ইউক্রেইনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধে যারা ইন্ধন জোগাচ্ছে, তাদের জন্য এমন অভিযান এই বার্তাই দিচ্ছে যে, আমরা তাদের কোথাও লুকিয়ে থাকতে দেব না।”

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ড্যান জার্ভিসের দাবি, এ ধরনের ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর মাধ্যমে তেল বিক্রি করে রাশিয়া ইউক্রেইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর জন্য অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এ ধরনের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ যে কোনও মূল্যে আটকানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে জারি থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া তেল রপ্তানির জন্য জাহাজের এ ধরনের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহর পরিচালনা করে আসছে।

এই বহরের জাহাজগুলোর মালিকানা কিংবা এগুলো কারা পরিচালনা করছে, তা জানা যায় না। অর্থাৎ, বেনামে এসব জাহাজের মাধ্যমে রাশিয়া বিভিন্ন দেশে তেল পৌঁছোনোর কাজ করছে বলেই অভিযোগ পশ্চিমা দেশগুলোর।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বলছে, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায়, সেদেশের ৭৫ শতাংশ খনিজ তেল এই ধরনের ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এই ছায়া বহরে রাশিয়ার ৭০০’র বেশি জাহাজ কাজ করছে। এই শ্যাডো ফ্লিট বন্ধ করা গেলে রাশিয়াকে আর্থিক ভাবে দুর্বল করে দেওয়া যাবে বলেই মনে করেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী।