এনএসইউ ও বিএসএমএস-এর উদ্যোগে সিমুলেশন ও ডিজিটাল উদ্ভাবন বিষয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ) এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর মডেলিং অ্যান্ড সিমুলেশন (বিএসএমএস)-এর যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার (১২ জুন) এনএসইউর অডি-৮০১-এ সিমুলেশন বিজ্ঞান ও ডিজিটাল উদ্ভাবন বিষয়ক সেমিনার, পোস্টার উপস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক পরিদর্শন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক বৈঠকসহ দিনব্যাপী একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিল্প-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্পোন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরসহ সমসাময়িক নানা ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মডেলিং ও সিমুলেশন প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চীনের বেইহ্যাং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং এশিয়া সিমুলেশন ফেডারেশন (এশিয়াসিম)-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. লিন ঝ্যাং এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও এশিয়াসিম-এর মহাসচিব ড. জিংনং ওয়েং।

দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয় “সিমুলেশন ফর এভ্রিথিং: দ্য ফিউচার অফ ডিজিটাল ইনোভেশন” শীর্ষক সেমিনারের মাধ্যমে। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্সেস (এসইপিএস)-এর ডিন অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সিমুলেশন প্রযুক্তি বর্তমানে অপরিহার্য হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, যা কার্যকর বিশ্লেষণ, নকশার উন্নয়ন এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এ ধরনের আয়োজন নতুন ধারণা, অংশীদারিত্ব ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. লিন ঝ্যাং, অধ্যাপক ড. জিংনং ওয়েং এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন মোল্লা। বক্তারা বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রকৌশল নকশা, চিকিৎসা উদ্ভাবন, উৎপাদনশিল্প, পরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিমুলেশন প্রযুক্তির রূপান্তরমূলক ভূমিকা তুলে ধরেন। বিভিন্ন উপস্থাপনা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে তারা সিমুলেশন প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ এবং বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল মডেলিং কীভাবে উদ্ভাবন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারা পরিবর্তন করছে, তা উপস্থাপন করেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ বলেন, সিমুলেশনভিত্তিক গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ এটি ব্যয়-সাশ্রয়ী, কার্যকর এবং বাস্তবায়নের পূর্বেই নতুন ধারণার কার্যকারিতা যাচাই করার সুযোগ সৃষ্টি করে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা ক্ষেত্রে সিমুলেশন প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক গবেষণাগার, গবেষণা কেন্দ্র এবং উন্নত কম্পিউটিং সুবিধা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সিমুলেশনভিত্তিক গবেষণাকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উচ্চমানের গবেষণা ও পরীক্ষণ পরিচালনা করতে পারেন।

সেমিনারের সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং বিএসএমএস-এর সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ মনির উদ্দিন। তিনি অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে অবদান রাখার জন্য অতিথি, বক্তা, অংশগ্রহণকারী, আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিকেলে অনুষ্ঠিত পোস্টার উপস্থাপনা পর্বে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা মডেলিং, সিমুলেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি-সংক্রান্ত চলমান গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। এ পর্ব গবেষক ও পেশাজীবীদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, সহযোগিতা এবং নেটওয়ার্কিংয়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অবস্থিত কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট (সিআই) পরিদর্শন করেন, যা বাংলাদেশের প্রথম চীনা ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র। তারা এনএসইউ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অত্যাধুনিক সিমুলেশন ল্যাবরেটরি ও গবেষণা কেন্দ্রও ঘুরে দেখেন এবং সেখানে চলমান সিমুলেশনভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হন।

এরপর, এশিয়াসিম-এর প্রতিনিধিরা এনএসইউর সিন্ডিকেট হলে বিএসএমএস-এর সদস্যদের সঙ্গে সিমুলেশন বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় এশিয়াসিম-এর সভাপতি ও মহাসচিব বাংলাদেশে সিমুলেশন গবেষণা ও শিক্ষার প্রসারে বিএসএমএস-এর কার্যক্রম ও অর্জনের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং পেশাগত উন্নয়ন কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।