সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে রাজধানীতে জামায়াত জোটের বিক্ষোভ

ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সমাবেশ পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এবং দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্দুল বাতেন আনসারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার ভূখণ্ড রক্ষায় দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ পুশইন প্রতিরোধে বিজিবিকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। কিন্তু কেউ যদি বন্ধুত্বের আড়ালে দাদাগিরি করতে চায়, তাহলে এ দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।” সীমান্ত সমস্যার সমাধানে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথানত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।”

ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ভারতের সীমানা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু তারা বাংলাদেশের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেনি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিপরীত বার্তা দিয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “১৯৪৭ সালে অভিন্ন আকাশের স্বপ্ন ভারত ভঙ্গ করেছিল। মুসলমানদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের কারণেই অভিন্ন ভারতের ধারণার বিরুদ্ধে মানুষ অবস্থান নিয়েছিল।” তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “মুজিববাদের পথে হাঁটলে আবারও ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।”

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও পুশইনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “জনগণ উদ্বিগ্ন হলেও সরকার উদ্বিগ্ন নয়। সীমান্তে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, অথচ সরকার সেটিকে বর্ডার কিলিং বলতেও অনীহা দেখাচ্ছে।”

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের নামে যা ঘটছে, তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি।” তিনি দাবি করেন, এসব কার্যক্রম বন্ধ না হলে দেশের জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানও সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “জুলাইয়ের চেতনা ছিল আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু সীমান্তে হত্যা ও পুশইন বন্ধে বর্তমান সরকারও কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে শাহবাগের শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে পল্টনের দিকে অগ্রসর হয়। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।