জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির আয়োজক পাকিস্তান!

জেনেভায় আগামী ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির ঐতিহাসিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে পাকিস্তান। এমন ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। সোমবার (১৫ জুন) তিনি এ ঘোষণা দেন। এ ঘোষণাকালে তিনি এই চুক্তিকে বিশ্ব শান্তির জন্য একটি ‘স্মরণীয় মাইলফলক’ এবং যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের ওপর শান্তি ও সংলাপের বিজয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, আজ বিশ্ব প্রত্যক্ষ করল যে শান্তির অন্বেষণ এক বিরাট বিজয় অর্জন করেছে এবং যুদ্ধের আগুন স্তিমিত হতে শুরু করেছে। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত যা ইতিহাসবিদরা স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ করবেন।

যদিও এটি এখনও একটি কাঠামো, তবুও এই চুক্তিটিকে সেই সংঘাত নিরসনের পথে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং জ্বালানি বাজারকে বিপর্যস্ত করেছে। তিন মাস ষোল দিনের প্রচণ্ড দুর্ভোগের পর এই মুহূর্তটিকে ‘এক ঐশ্বরিক আশীর্বাদ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের অন্ধকার রাতের পর অবশেষে শান্তির সূর্য উঠেছে।’

তিনি সংসদকে জানান যে, এই চুক্তির অধীনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে সামরিক অভিযানের অবিলম্বে ও স্থায়ী সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। তিনি এই সাফল্যে পাকিস্তান জাতি ও সমগ্র বিশ্ব সম্প্রদায়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং স্পিকার ও সংসদের প্রত্যেক সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে শেহবাজ, প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় জড়িত উভয় আলোচনা দলের সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও পক্ষগুলো প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও ধৈর্য হারায়নি।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করে পাকিস্তান। এর আগে কয়েক দফা ব্যর্থতার পর অবশেষে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেন। যা শুক্রবার জেনেভায় সই হবে।