একনেকে উঠছে ৫ প্রকল্প তিনটি পানিসম্পদের

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিন প্রকল্পসহ মোট পাঁচটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে নতুন তিনটি এবং দুইটি সংশোধিত প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৬৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় কবে ২ হাজার ২২৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা। সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় হবে ৩৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রকল্পের মধ্যে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প; ফেনী জেলার মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন; করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প; পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলাধীন শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা প্রকল্প এবং ১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প। 

সূত্রে জানা যায়, আলচ্য সূচিতে থাকা চীনের অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রকল্পটি কয়েক দফায় একনেকে উপস্থান করা হলেও অনুমোদন পায়নি। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছ। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) ঋণের আওতায় পাওয়া যাবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে থাকবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

কার্য তালিকায় থাকা অন্য প্রকল্পের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ফেনী জেলাধীন মুহরী-কহুয়া বন্যানিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এপ্রিল ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

একই মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রকল্প ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন’। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০ পর্যন্ত মেয়াদি প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

মন্ত্রণালয়টির আরেকটি প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব রয়েছে। ‘পদ্মা নদীর ভাঙন  থেকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলাধীন শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা’ প্রকল্পটির মেয়াদকাল অক্টোবর ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ছিল। সংশোধনীতে এটির মেয়াদ বাড়িয়ে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত করার প্রস্তাব রাখা হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবও রয়েছে। এটির মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।  সংশোধনীতে ১ হাজার ৬৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্পের সম্পূর্ণ ব্যয়ই সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে করা হবে।

একনেকের কার্যতালিকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘দেশের ১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের সংশোধনী প্রস্তাব রয়েছে। ৯২৪ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালের জুনে। কিন্তু পরবর্তীতে বারবার বেড়েছে এই সময়। একই সঙ্গে ব্যয় বেড়েছে ২৭৩ শতাংশ। ১ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা বেড়ে এখন প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫২০ কোটি টাকায়। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত প্রকল্পের ফের মেয়াদকাল বৃদ্ধি করে ডিসেম্বর ২০২৭ করার প্রস্তাব করা হবে।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত আরও চারটি প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করা হবে। এগুলো হলো প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ; সাভারে নৌবাহিনী স্কুল ও কলেজ স্থাপন এবং সিলেট শমসেরনগরে বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প। এ ছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ক্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প।