রাউজানে যুবদল নেতা হত্যা

দুইদিন পর ৩১ জনকে আসামি করে থানায় মামলা

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার ঘটনার দুইদিন পর 'সন্ত্রাসী' রায়হানসহ ৩১ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত ১২ টার দিকে নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় এ মামলা করেন।  

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন রায়হানের সহযোগী মেহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে ধামা ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম ও মোহাম্মদ ইউসুফ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়।

ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলার আসামিদের মধ্যে পাঁচজনকে আগেই ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।

গত ১৩ জুন দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে (৪৫) গুলি করে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যার মিশনে অংশ নিয়েছিল ছয় থেকে সাতজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। এর মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল পিস্তল এবং দুজনের হাতে ছিল শটগান। বাজারে থাকা সিসি ক্যামেরায় হত্যাকাণ্ডের এমন দৃশ্য ধরা পড়ে।

পুলিশের ধারণা, বালু ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে মাসুদুলকে হত্যা করা হয়।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, গত ১৩ জুন দুপুর দেড়টার দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে আসেন তারা। এরপর একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলি  করে তারা। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন পার্শ্ববর্তী উপজেলা রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এরপর ফাঁকা গুলি ছুড়ে অটোরিকশা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন সন্ত্রাসীরা।

নিহত মাসুদুল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী তার বড় ভাই। পরবর্তী নির্বাচনে মাসুদুল ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।