মেসে বান্ধবীসহ আটক হয়ে আলোচনায় আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান আগেই বিয়ে করেছিলেন সেই বান্ধবীকে। বিয়ের সপ্তাহখানেক পরেই এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তিনি।
১৫ জুন নিজের বিয়ের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে তিনি লিখেন, 'বছর আড়াই আগে চোখাচোখি থেকে শুরু। এরপর বন্ধুত্ব, প্রেম, বিয়ে; সেই চোখাচোখি থেকে বউই হয়ে গেলো। কত ঝড় আসে, তুফান উঠে, ভেসে যেতে ধরি; মেয়েটা হাল ছাড়ে না। মচকালেও ভাঙে না, আমাকেও ভাঙতে দেয় না। শুন্য পকেটে বিশ্বাস করে, অদেখা ভবিষ্যতেও ভরসা পায়, চরম অনিশ্চয়তার মাঝেও ভালোবেসে যায়!'
এর আগে, ঘটনার বিবরণ দিয়ে গত ১৩ জুন দীর্ঘ আরেকটি পোস্ট করে তিনি লিখেন, ‘এই জীবন, সোশ্যাল মিডিয়া, ক্যাম্পাস কিছুই আর আমাদের টানে না। ক্যাম্পাস বন্ধের সময়ে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার ট্রমা আমরা আজও কাটিয়ে উঠতে পারি নাই।
অথচ, মিডিয়া জুড়ে চলেছে ট্রায়াল, প্রতিপক্ষ উদ্যাপন করেছে, এর বাইরেও অনেকেই রীতিমতো উদ্যাপন করেছে; কিন্তু কেউ আমাদের মানসিক অবস্থাও জানতে চাননি, সত্যটাও না। সেদিন মূলত কী হয়েছিল? কেনোই বা আমার স্ত্রীকে আমি আমার বান্ধবী লিখলাম? আসলেই কি আমরা নিজেরা বাঁচতে অন্যকে ফাঁসিয়েছিলাম?’
এছাড়া দীর্ঘ এই পোস্টে তিনি সেই বান্ধবীকে নিজের স্ত্রী দাবি করে বলেন, ‘ঘটনার দিন আমাদের কক্ষে কয়েকজন ক্যামেরাসহ জোরপূর্বক প্রবেশ করে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারধর, হেনস্তা এবং অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে। এ সময় দুটি ল্যাপটপ, মানিব্যাগ, ব্যাগ, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়। পারিবারিক কারণে বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীকে ‘বান্ধবী’ বলেছিলাম। এছাড়া কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা আমরা করিনি; শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রকৃত পরিচয় দিয়েছি। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।’
এর আগে গত ২৩ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সংলগ্ন জোবরা এলাকার চৌধুরী পুকুর ২নং রোড কে জে এম টাওয়ারের পাশের ভবন থেকে স্থানীয়দের হাতে আটক হন তারা। পরে তাকে স্থানীয়রা মারধরও করেন। সে সময় অভিযোগ ওঠে, নিজের অপকর্ম আড়াল করতে অন্য দুই শিক্ষার্থীর নাম জড়ানোর চেষ্টা করেছেন ছাত্রদলের এই নেতা। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
এ ঘটনার পর ওইদিন ‘মিডিয়া অফ জোবরা-ফতেহপুর’ নামের একটি ফেসবুক পেজে রাত আনুমানিক ২টার দিকে একটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটিতে শুরুতে আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমানের নাম ‘সাকিব রহমান’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে সেটি পরিবর্তন করে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজিফা তাসনিম প্রিয়ন্তীর নাম যুক্ত করা হয়। কিন্তু দোষ চাপানো এ দুই শিক্ষার্থী ঘটনার আগেই ঈদের ছুটিতে নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন বলে তারা ফেসবুকে লাইভে এসে জানায়।
এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২৪ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সাকিফ রহমানকে বহিষ্কার করে।
জানতে চাইলে সাকিফ রহমান বলেন, আমরা গত ১৬ মে পারিবারিকভাবে বিয়ে করি। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনা ছিল মাস্টার্স পরীক্ষার পর বিষয়টি সামনে আনার। কিন্তু সেদিন আমাদের ওপর হামলাকারীরা আমাকে কিছু বলতে না দিয়ে মারধর ও ভিডিও ধারণ করা শুরু করে। তারা আমাদের অনেক কিছু হাতিয়েও নিয়েছে। আমি এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এছাড়া অন্য দুই শিক্ষার্থীর ওপর দায় চাপানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাকিফ বলেন, সবাই আমাকে চিনতোই। আমি অন্য কারও নাম বলার তো সুযোগ নেই। সেখানে প্রক্টর স্যারও ছিলেন। এগুলো কারা ছড়িয়েছে, কী উদ্দেশ্যে ছড়িয়েছে আমার জানা নেই।