কুড়িগ্রামে ক্ষতির মুখে সবজি চাষিরা

অতিবৃষ্টি আর দীর্ঘস্থায়ী খড়ার বিরূপ প্রভাবে কুড়িগ্রামে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন সবজি চাষিরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পটল চাষিরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত বিঘা জমির পটলখেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অসংখ্য কৃষক। অনেকেই এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় দিন পার করছেন।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে চাষ করা হয়েছিল পটল। কিন্তু টানা অতিবৃষ্টি ও হঠাৎ খড়ার কারণে গাছগুলো মরে যেতে শুরু করেছে। কোথাও ক্ষেতজুড়ে শুকিয়ে গেছে সবুজ লতা, কোথাও আবার ফলন আসার আগেই নষ্ট হয়ে গেছে পুরো খেত। এতে জীবন-জীবিকার সংকটে পড়েছেন কৃষকরা।

চাষিরা জানান, এক বিঘা জমিতে পটল চাষে খরচ হয় প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে সেই জমি থেকে আয় হতো এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এবার গাছ মরে যাওয়ায় অনেক কৃষক আসল টাকাও তুলতে পারেননি।

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের পটল চাষি আলতাফ হোসেন বলেন, অতিবৃষ্টি আর কয়েকদিনের খরায় আমার কয়েক বিঘা জমির পটল গাছ মরে গেছে। পটল বিক্রিও করতে পারছি না। এখন পরিবার নিয়ে খুব টেনশনে আছি।

আরেক চাষি এনামুল হক সরকার বলেন, সবজি চাষ করেই সংসার চালাই, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দেই। এবার আগাম পটলখেত নষ্ট হওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। সরকার যদি সহযোগিতা করতো, তাহলে অনেক উপকার হতো।

সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, হঠাৎ দেখি পটল গাছ মরে যাচ্ছে। দোকান থেকে ওষুধ এনে জমিতে দিয়েও রক্ষা করতে পারিনি। কৃষি বিভাগের লোকজন আগে পরামর্শ দিলে হয়তো গাছগুলো বাঁচানো যেত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ২ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পটল চাষ করা হয়। তবে কী পরিমাণ জমির পটলক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। যেসব জমিতে পানি জমে থাকে, সেসব জমিতে সবজি চাষ না করার পরামর্শ দেওয়া হলেও অনেক কৃষক ঝুঁকি নিয়ে চাষ করছেন। ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পটল চাষিরা যেহেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাই তাদের বিভিন্ন ধরনের শাক, মরিচ ও মিষ্টি কুমড়াসহ স্বল্পমেয়াদি ফসল চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সামনে আমন মৌসুম আসছে। আমন মৌসুম না আসা পর্যন্ত, বিকল্প ফসল আবাদ করতে পারলে কৃষকরা কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।