যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নিয়ে সংশয়!

মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে চলমান অলচবস্থার অবসানে পাকিস্তানের মধ্যস্থাতায়  ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তির চেষ্টা চলছে। তবে চুক্তি নিয়ে  ইতোমধ্যে যথেষ্ট সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানি কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় চুক্তি নিয়ে যেভাবে কথা বলছেন, তা মধ্যস্থতাকারী দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বিপরীত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এমন পরিস্থিতি তে যুক্তরাষ্ট্রের নবঘোষিত ইরান চুক্তি নিয়ে খোদ ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ নীতি-নির্ধারক ও গোয়েন্দা মহলে তীব্র সংশয় ও মতভেদ তৈরি হয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী পারমাণবিক ছাড় দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সদিচ্ছা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই সিআইএ প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

রবিবার (১৪ জুন) আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে এই সংশয় প্রকট হয়ে ওঠে।  

সিআইএ প্রধান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মনে করেন, তেহরানের এই দ্বিচারিতার কারণে তারা শেষ পর্যন্ত মার্কিন শর্ত মেনে চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করবে না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার এই চুক্তির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।

হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব পক্ষের মতামত শুনলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ক্ষমতা তারই। এই সমঝোতা স্মারকে প্রশাসনের সব রেড লাইন বজায় রাখা হয়েছে যেন ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র ও উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধরে রাখতে না পারে। তবে এই অন্তর্বর্তীকালীন ১৪ দফার চুক্তিটি মূলত আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও বিস্তারিত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর ওপর নির্ভর করছে।

সমালোচকদের প্রধান ভীতি হলো, ইরান মার্কিন শর্ত মেনে চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করার সম্ভাবনা ক্ষীণ, অথচ এই ৬০ দিন স্থিতাবস্থা বজায় রাখার সুযোগে তারা ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী ৬০ দিনের জন্য শুল্কমুক্ত করা এবং অবরুদ্ধ ইরানি তহবিল ধাপে ধাপে ছাড় করার মতো বিষয় রয়েছে। 

তবে মার্কিন প্রবীণ কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান কোনো সুবিধা পাবে কি না তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তাদের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই বোঝা যাবে ইরান পারমাণবিক ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আসলেই আন্তরিক কি না, অন্যথায় ইরান কোনো সুবিধা পাওয়ার আগেই এই পুরো প্রক্রিয়াটি ভেস্তে যেতে পারে।