জাল ভিসায় ইতালিতে মানবপাচার, বিমান কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

উন্নত জীবনের স্বপ্ন ও ইতালিতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা নেয় একটি মানবপাচারকারী চক্র। পরবর্তীতে চক্রটি দুই ব্যক্তিকে নেপাল ও ইতালিগামী বিমান টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ইতালির শেনজেন ভিসা সরবরাহ করে। গত ২৬ মে তারা বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইতালির রোমের ফিউমিচিনো লিওনার্দো দা ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের পাসপোর্টে সংযুক্ত শেনজেন ভিসা পরীক্ষা করে জাল বলে শনাক্ত করে। পরে তাদের আটক করে দুই দিন হেফাজতে রাখা হয় এবং ২৮ মে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

দেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশন পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগীরা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানান। তদন্তে উঠে আসে, বিদেশে বৈধ কর্মসংস্থানের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানবপাচারকারী চক্রটি জাল ভিসা সরবরাহের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্তে নেমে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের জুনিয়র অফিসার (গ্রাউন্ড সার্ভিস, আইএনএস গেট) মোহাম্মদ আখলাছুর রহমানের সম্পৃক্ততা পায় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে।

গতকাল মঙ্গলবার মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সানা শামিনুর রহমান জানান, গতকাল ভোরে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা থেকে আখলাছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ও তার সহযোগীরা জাল শেনজেন ভিসা ব্যবহার করে ইতালিতে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন কিংবা ভ্রমণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।