মোবাইল ফোনে বিআরটিএর নামে জরিমানা সংক্রান্ত এসএমএস পান এক ব্যক্তি। এসএমএসে দেওয়া লিংকে প্রবেশ করে দেখতে পান তার অফিসের গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ করলে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিলেই হবে। বিষয়টি সত্য ধরে নিয়ে ওই ব্যক্তি জরিমানা পরিশোধের জন্য অনলাইন পেমেন্ট পোর্টালে প্রবেশ করেন। সেখানে স্ত্রীর ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ব্যাংক অ্যাপের লগইন তথ্য ও ওটিপি প্রদান করতে হয় তাকে। কিছুক্ষণ পর দেখতে পান জরিমানা পরিশোধ না হয়ে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব থেকে ৩ লাখ টাকা অন্য একটি হিসাবে স্থানান্তর হয়েছে।
একই ধরনের আরও দুটি অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্ত উঠে আসে, চক্রটি ভুয়া ট্রাফিক মামলা ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে ফিশিং লিংকের মাধ্যমে মানুষের ব্যাংক কার্ড, অ্যাকাউন্ট ও ওটিপি তথ্য সংগ্রহ করে অর্থ আত্মসাৎ করছে। পরে অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সদস্যকে খুলনা, ফেনী ও ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। তারা হলেন রাব্বি শেখ (২৪), রিয়াদ হোসেন (৩১) ও সাজ্জাদ হোসেন (৩১)।
গতকাল মঙ্গলবার মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সানা শামিনুর রহমান বলেন, ডিএমপির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মামলা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর প্রতারক চক্র এটি কাজে লাগিয়ে প্রতারণা শুরু করে। চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে জানায় ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করায় মামলা হয়েছে। এসএমএসে থাকা লিংকে প্রবেশ করলে ভুক্তভোগীদের বিআরটিএর ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি করা একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে দেখানো হতো। সেখানে জরিমানা পরিশোধের কথা বলে ব্যাংক কার্ডের তথ্য, অ্যাকাউন্টের তথ্য ও ওটিপি নিয়ে নিতো প্রতারকরা। এমনকি দ্রুত জরিমানা পরিশোধ করলে ৫০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে এমন প্রলোভনও দেখানো হতো। ওটিপি সংগ্রহের পর প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের ব্যাংক হিসাব থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করত। গ্রেপ্তার তিন আসামি এভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাৎ করেছে।
ডিআইজি সানা শামিনুর জানান, এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনের ধারায় মামলা হয়েছে। ডিএমপির এআই ক্যামেরার মাধ্যমে যেসব ট্রাফিক মামলা হচ্ছে, সেগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো এসএমএস পাঠানো হয়নি। ডিএমপির পক্ষ থেকে ম্যানুয়ালি ঠিকানায় নোটিস/চিঠি পাঠানো হচ্ছে। নোটিস পাওয়ার পর নির্ধারিত নিয়মে শুধু ইউসিবি ব্যাংক ও কমিউনিটি ব্যাংকের মাধ্যমে জরিমানার টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। ট্রাফিক জরিমানার নামে কেউ মোবাইলে এসএমএস, ফোনকল বা অন্য কোনো মাধ্যমে তথ্য চাইলে সেটি প্রতারণা হতে পারে। কোনো ধরনের সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ করে ব্যাংক তথ্য, কার্ড নম্বর বা ওটিপি না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি এই কর্মকর্তা।