আদাবরে বিকাশ এজেন্টের টাকা লুট অভিযানে ওসি-এসআই আক্রান্ত

রাজধানীর আদাবরে এক বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ও মোবাইল লুটের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আদাবরের ৭ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। বিকাশ এজেন্ট শফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে তিন লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারে দুপুরে অভিযান চালায় আদাবর থানা পুলিশ। এ সময় ছিনতাইকারীরা আদাবর থানার ওসি ও এক এসআইকে কুপিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়লে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হন। পরে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। আহত শফিকুল ইসলামকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

ভুক্তভোগীর আত্মীয় মো. মুসলিম বলেন, শফিকুল বাসা থেকে তিন লাখ টাকা নিয়ে দোকানে আসেন। দোকান খুলে বসা মাত্রই চার থেকে পাঁচজন চাপাতি হাতে দোকানে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা শফিকুলের ডান হাতে কোপ দিয়ে টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায়। 

পুলিশ জানায়, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে দুপুরে আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালায় আদাবর থানা পুলিশ। এ সময় ছিনতাইকারীরা চাপাতি নিয়ে আক্রমণ চালিয়ে ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম ও এসআই তরুণকে জখম করে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এতে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হন। তারা হলো চোরা রুবেল ও কানা আমির। পরে আরিফ হোসেন জয় ও আবুল কাশেম নামে আরও দুজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে আদাবরে বিকাশের দোকানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। জড়িত অপরাধীদের ধরতে দুপুরে আদাবরের ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ছিনতাইকারীর চাপাতির আঘাতে আমি ও এসআই তরুণ আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কিশোর গ্যাং ‘কবজি কাটা’ গ্রুপের সদস্যরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। গ্রুপের সাবেক প্রধান আনোয়ারের বন্ধু আবু সাঈদের নেতৃত্বে বর্তমানে গ্রুপের সদস্যরা অপরাধ করে চলছে। গত সোমবার রাতেও এই গ্রুপ আদাবর ১০ নম্বর বালুরমাঠে কয়েকটি গ্যারেজে লুটপাট চালিয়েছে। জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা জানান, কবজি কাটা আনোয়ার গ্রুপের সদস্যরা বিকাশের দোকানে লুট করে তুরাগ থানার ২ নম্বর রোডে অবস্থান করছেÑ এমন খবরে আদাবর থানার ওসির নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় তারা। এ সময় পুলিশের গুলিতে চোরা রুবেল ও কানা আমির আহত হয়। পরে আরিফ হোসেন জয় ও আবুল কাশেমকে ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়।