নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেলওয়ে সংযোগ সেতুর কয়েকটি পিলারের গোড়া থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র মাটি কেটে ট্রাকে করে ইটভাটায় বিক্রি করছে। সামাজিক মাধ্যমে এর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেলসেতুর ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর পিলারের গোড়া ও আশপাশ থেকে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে কারা এই কাজ করছেন, তা স্পষ্ট নয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, তিনটি পিলারের নিচে ও আশপাশে ৮ থেকে ১০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে করে আশপাশের ইটভাটায় মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
আলীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আবু সালেহ বলেন, এলাকাবাসীর আপত্তি সত্ত্বেও রাতের বেলায় শত শত ট্রাক মাটি কেটে নিয়ে গেছে। আরেক বাসিন্দা আজহার আলী বলেন, পিলারের নিচে ৮ থেকে ১০ ফুট গভীর গর্ত করা হয়েছে। এতে সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কুতুবপুর ইউপির সাবেক সদস্য আবু বক্কর, সাগর ছিদ্দিক, সাঈদ, শান্তসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা এই মাটি কাটার কাজে জড়িত। তবে সাবেক ইউপি সদস্য আবু বক্কর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নন। জড়িতদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মাটি কাটার খবর পেয়ে ফতুল্লার এসি ল্যান্ড মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর কাজ বন্ধ করে দেন। মঙ্গলবারও ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন ও এসি ল্যান্ড আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ইউএনও ফয়েজ উদ্দিন বলেন, পদ্মা রেলসেতুর নিচ থেকে মাটি কাটার খবর পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা অনুমতির কথা বললেও এমন কোনো নথি দেখাতে পারেননি। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত সেখানে মাটি কাটা বন্ধ থাকবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
পদ্মা রেলসেতু প্রকল্পের ব্রিজ অ্যান্ড ভায়াডাক্ট ইনচার্জ প্রকৌশলী আমিনুল করিম বলেন, আলীগঞ্জ অংশটি আগে জলাধার ছিল। নির্মাণকাজের সুবিধার জন্য সেখানে অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করে প্রবেশপথ তৈরি করেছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ায় মাটি সরিয়ে জলাশয় পুনরুদ্ধারের কাজ চলছিল। ৭৬ থেকে ৯০ পর্যন্ত পিলারের ৬০০ মিটার এলাকায় এ কাজের পরিকল্পনা ছিল। পিলারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই। স্থানীয়রা না বুঝে সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, পদ্মা রেলসেতুর নিচ থেকে মাটি কাটার খবর পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছে।