এমবাপ্পে-ঝড়ে উড়ে গেলো সেনেগাল

বিশ্বকাপের গ্রুপ হাইভোল্টেজ ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে ফেভারিট ফ্রান্স। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে প্রথমার্ধে চরম চাপে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের জাত চিনিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জোড়া গোল করে ফ্রান্সের জয়ের নায়ক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।

ম্যাচের শুরু থেকেই কোনো রকম ভয়ডর ছাড়া আক্রমণ করতে থাকে আফ্রিকার পরাশক্তি সেনেগাল। ইদ্রিসা গেয়ি এবং পাপে গেয়ির দুর্দান্ত মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণের কারণে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ বলই পাচ্ছিল না।

২৪ মিনিটে ম্যাচের প্রথম সুবর্ণ সুযোগ পায় সেনেগাল। এমবাপ্পে বল হারানোর পর পাপে গেয়ির পাস থেকে বল পান নিকোলাস জ্যাকসন. তাঁর বাঁ পায়ের দারুণ শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং বলটি ফরাসি কিপার মাইক মাইনানের পায়ে লেগে কর্নার হয়। ভাগ্য সহায় থাকায় সেবার বেঁচে যায় ফ্রান্স।

বিরতির আগে সাদিও মানের চমৎকার ক্রস থেকে ইসমাইলা সার গোলবারের ঠিক সামনে ফাঁকায় বল পেয়েও ওভারহেড শট মেরে বসেন, যা বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে প্রথমার্ধ গোলশূন্য (০-০) শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খোলস ছেড়ে বের হয় ফ্রান্স। তরুণ উইঙ্গার দেজিরে দুয়ে এবং মাইকেল অলিসের কল্যাণে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তারা।

৫২ ও ৫৬ মিনিটে সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্ডি পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভ করেন—প্রথমে অলিসের শট এবং পরে এমবাপ্পের ডান পায়ের শট রুখে দেন তিনি।

অবশেষে ৬৬ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন এমবাপ্পে।  অলিসের একটি নিখুঁত ও 'সার্জিক্যাল' পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার হাফ-টার্নে মেন্ডিকে পরাস্ত করে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন এমবাপ্পে।

·৮২ মিনিটে ওসমানে দেম্বেলের বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ২ মিনিটের মাথায়, নিজের প্রথম ছোঁয়াতেই দারুণ এক চিপ শটে গোল করে ফ্রান্সের জয় প্রায় নিশ্চিত করেন ব্রাডলি বারকোলা।

৯৫ মিনিটে ম্যাচের যোগ করা সময়ে পিএসজি তারকা ইব্রাহিম এমবায়ে দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে থিও হার্নান্দেজকে পরাস্ত করে সেনেগালের হয়ে ব্যবধান কমান।

সেনেগাল যখন সমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই তাদের হতবাক করে দেন এমবাপ্পে। বারকোলার পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে এক অবিস্মরণীয় বুলেট গতির শটে বল জালে জড়ান তিনি। এটি চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে এখনই গণ্য হচ্ছে।