চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ

ব্যক্তিগত আক্রোশের কথা বললেন অধ্যাপক রিদওয়ান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক মুশতাক আহমদ ও অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ওঠে। ওই বছরের বোর্ড অব গভর্ন্যান্সের (বিজি) ১১৩তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৎকালীন প্রো-উপাচার্যকে (শিক্ষা) আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আরও ছিলেন তৎকালীন বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন এবং ফিন্যান্স বিভাগের একজন অধ্যাপক।

তদন্ত শেষে কমিটি মত দেয়, অস্ট্রেলিয়ায় জমা দেওয়া গবেষণাপত্রটি সংশোধন সাপেক্ষে প্রকাশের জন্য বিবেচিত হয়েছিল, তবে তা চূড়ান্তভাবে গৃহীত বা প্রকাশিত হয়নি। কারণ সংশ্লিষ্ট সাময়িকীতে গবেষণাপত্রটির কোনো খণ্ডসংখ্যা, সংখ্যাক্রম বা প্রকাশকাল উল্লেখ ছিল না। ফলে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তৎকালীন উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিজি সর্বসম্মতিক্রমে ওই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।

তবে অভিযোগ, মীমাংসিত বিষয় নিয়ে অন্তর্বর্তী ড. ইউনূস সরকারের সময় (২০২৫ সালের ৩০ জুলাই) হয়রানির উদ্দেশ্যে কতিপয় শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ জমা দেয়। এরপর বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিনের মতামতের ভিত্তিতে এসএমটি সভায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আইন উপদেষ্টার মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আইন অনুষদের ডিনকে আহ্বায়ক করে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে পূর্বে নিষ্পত্তি হওয়া একই অভিযোগে পুনরায় তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক পর্যায়ে মীমাংসিত একটি বিষয় নিয়ে পুনরায় তদন্ত কমিটি গঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

তাদের মতে, বিজি অনুমোদিত সিদ্ধান্ত পুনরায় পর্যালোচনার ক্ষেত্রে নতুন করে বিজির সুস্পষ্ট অনুমোদন রয়েছে কি না, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া ২০১৮ সালের তদন্তে বিবেচনায় না আসা নতুন কোনো তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে এমনটিও জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটির লেখক ছিলেন মোট তিনজন। তবে পুনরায় যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, সেখানে শুধু অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হকের নাম উল্লেখ করে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে বিষয়টি ব্যক্তিগত আক্রোশ ও হিংসাবশত করা হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।

অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হক বলেন, বিজির সিদ্ধান্তে আমাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। ওই ঘটনার পর প্রফেসর হয়েছি ৮ বছর হয়ে গেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষাখাতে আমার অবদানে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্র করে অভিযোগ দিয়েছে। তার সুনাম নষ্ট করতে এটা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।