ভিয়েতনামে জবাইয়ের আগে ৪২১ বিড়াল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৯ 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে চুরি করা ৪০০টিরও বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দেশটির একটি প্রাণীকল্যাণ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। বিবিসি

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে তায় নিনহ প্রদেশ ও হো চি মিন সিটির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির আস্তানা থেকে ৪০০টির বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়। একই সময় বরফে সংরক্ষিত অবস্থায় প্রায় ৮০টি মৃত বিড়ালও জব্দ করা হয়। এছাড়া পৃথক একটি স্থান থেকে আরও ২১টি বিড়াল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হো চি মিন সিটিতে ধারাবাহিক পোষা প্রাণী চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে গত ১১ জুন এই চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ।

তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা গত তিন বছর ধরে দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকায় ফাঁদ পেতে মানুষের পোষা ও পথের বিড়াল চুরি করত। পরে সেগুলো খাঁচায় আটকে রেখে নির্দিষ্ট সংখ্যা জমলে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হতো। প্রতি কেজি বিড়ালের মাংসের দাম ছিল প্রায় ২ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৭০ হাজার ভিয়েতনামী ডংয়ের সমপরিমাণ।

প্রাণীকল্যাণ সংস্থা ‘হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস’ জানিয়েছে, বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি বিড়াল তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি প্রাণীগুলোর চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিয়েছেন স্থানীয় পশুচিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবীরা।

উল্লেখ্য, ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া আইনগতভাবে বৈধ। তবে এসব প্রাণী বিক্রির ক্ষেত্রে উৎসের বৈধ প্রমাণপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার চক্রটি অবৈধভাবে পোষা প্রাণী চুরি করে সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিল।