করদাতারা হয়রানির শিকার হতে পারেন

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান বলেছেন, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অত্যন্ত দুরূহ। আর এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চাপের ফলে মাঠ পর্যায়ে করদাতারা হয়রানির শিকার হতে পারেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে এমসিসিআই কার্যালয়ে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের শীর্ষক অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এমসিসিআই ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বক্তব্য দেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার ও এমসিসিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট হাবিবুল্লাহ এন করিম।

স্বাগত বক্তব্যে এমসিসিআই সভাপতি বলেন, প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ। স্বাভাবিকভাবেই এটি ব্যবসায়ী সমাজ, বিনিয়োগকারী, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। বাজেটে কর ও রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং ব্যবসা সহজীকরণের মতো বেশ কিছু ব্যবসাবান্ধব সংস্কারের প্রস্তাব থাকলেও, উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আহরণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে যৌক্তিক উদ্বেগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাজেটটি সময়োপযোগী হলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে বলে প্রতীয়মান হয়। বিশেষ করে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত এনবিআর যেখানে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬৫ শতাংশ বা ৩ দশমিক ২৭ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে পেরেছে, সেখানে কোনো ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া নতুন অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অত্যন্ত দুরূহ।

তিনি আরও বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৮ দশমিক ২ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। এমসিসিআই আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চাপের ফলে মাঠ পর্যায়ে করদাতারা হয়রানির শিকার হতে পারেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে তিন ধাপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন। অর্থনীতিকে গতিশীল করতে ভোগ, বিনিয়োগ, সরকারি ব্যয় এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থায় আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট খাতে পৃথক টাস্কফোর্স কাজ করছে। প্রতিটি খাতের জন্য মাসভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও মাইলস্টোন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি মাসে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ড. তিতুমীরের মতে, অতীতে রাজস্ব আয়ের যে তথ্য উপস্থাপন করা হতো, তার অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবতার প্রতিফলন ছিল না। বর্তমানে তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে।