চীনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে মোস্তাফিজুর রহমানের ৮ আলোকচিত্র

চীনের ইউনান প্রদেশের ঐতিহাসিক শহর কুনমিং ও ডালিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী চায়না-সাউথ এশিয়া (ডালি) ইন্টারন্যাশনাল ফটো এক্সিবিশন ২০২৬-এ স্থান পেয়েছে আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশি আলোকচিত্রী মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আটটি আলোকচিত্র। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান আলোকচিত্রীদের নির্বাচিত কাজের পাশাপাশি তার আলোকচিত্র এ প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়েছে।

এশিয়া ও বিশ্বের আলোকচিত্র অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক এ আয়োজন শুরু হয় গত ৯ জুন এবং শেষ হয় ১৭ জুন। নয় দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে বিভিন্ন দেশের আলোকচিত্রী, শিল্পী, কিউরেটর, গবেষক এবং ফটোগ্রাফি অনুরাগীরা এতে অংশ নেন।

প্রদর্শনীতে মোস্তাফিজুর রহমানের আটটি নির্বাচিত আলোকচিত্র কুনমিংয়ের দিয়ানছি আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও এক্সিবিশন সেন্টারে প্রদর্শিত হয়। তার আলোকচিত্রগুলো বাংলাদেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, মানুষের জীবনধারা এবং সামাজিক বাস্তবতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য ও জীবনচিত্র উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে এ প্রদর্শনীকে দেখা হচ্ছে।

২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করা ডালি ইন্টারন্যাশনাল ফটো এক্সিবিশন গত দেড় দশকে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ও মর্যাদাপূর্ণ আলোকচিত্র উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলোকচিত্রীদের অংশগ্রহণে এটি একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। প্রতিবছর হাজারো আলোকচিত্র এবং অসংখ্য শিল্পী ও ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজনটি আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে।

২০২৬ সালের আয়োজনকে আরও বৃহৎ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষে ডালি আন্তর্জাতিক ফটো এক্সিবিশনকে চীন–সাউথ এশিয়া এক্সপো-এর সঙ্গে যুক্ত করে এর নতুন নামকরণ করা হয়েছে চায়না-সাউথ এশিয়া (ডালি) ইন্টারন্যাশনাল ফটো এক্সিবিশন ২০২৬। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়া ও চীনের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ, শিল্পবিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে।

আয়োজকদের মতে, ফটোগ্রাফির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতাকে একে অপরের কাছে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আলোকচিত্র শিল্পের বিকাশে এ প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ৯ জুন থেকে কুনমিংয়ের দিয়ানছি আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও প্রদর্শনী কেন্দ্রে শুরু হলেও এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ১৩ জুন ডালির ডালি টাউন ফুড ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলোকচিত্রী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পকলা সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদেশী আলোকচিত্রীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আলোকচিত্রী মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। তার বক্তব্যে তিনি এ ধরণের আন্তর্জাতির প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল, বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন ও এক্সিবিশন আয়োজন সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, এই ধরণের বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে ফটোগ্রাফিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিল্পচর্চা এবং দক্ষিণ এশিয়া ও চীনের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার সম্ভব হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলোকচিত্রীদের সঙ্গে একই মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়ায় বাংলাদেশের তরুণ আলোকচিত্রীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনীতে তার আলোকচিত্র অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করেন তিনি।

MixCollage-18-Jun-2026-04-08-PM-3816

চায়না-সাউথ এশিয়া ডালি ইন্টারন্যাশনাল ফটো এক্সিবিশনের এবারের ১০ম আসর। এবারের উৎসবে মোট ২৫টি দেশের ২,২৬০ জন আলোকচিত্রীর ৮,০০০টিরও বেশি আলোকচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১০০ জনের বেশি বিদেশি আলোকচিত্রী এবং প্রায় ২,০০০ জন চীনা আলোকচিত্রী রয়েছেন। এর আগের প্রদর্শনীগুলোতে ৩০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১,০০০ জন আলোকচিত্রীর ২০,০০০-এরও বেশি ছবির প্রদর্শন হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ ও ২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আলোকচিত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে মেক্সিকো, বাহরাইন ও ইতালীতেও তার আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়েছে। আলোকচিত্রের জন্য তিনি বিশ্বের সম্মানজনক অনেকগুলো আন্তর্জাতিক পুরস্কারও অর্জন করেছেন।