প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে লোহা ও ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামালের ওপর আরোপিত রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএসআইএ)। সংগঠনটির দাবি, ৭২০৯ ও ৭২১০ এইচএস কোডভুক্ত পণ্যের ওপর নতুন আরডি আরোপে চরম শুল্ক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সংকটে ফেলবে।
সম্প্রতি রাজধানীতে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিআইএসআইএর সভাপতি আবুজার গিফারী জুয়েল লিখিত বক্তব্যে বলেন, এই শুল্ক কাঠামোর ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে এবং দেশের লাখো ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আরডি প্রত্যাহার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ভারসাম্যপূর্ণ শুল্ক কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানান।
সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আমির হোসেন নূরানী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে হট-রোল্ড কয়েল (এইচআরসি) ও গ্যালভানাইজড স্টিলের (জিপি) মূল্য ব্যবধান যেখানে প্রতি টনে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে, সেখানে নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে দেশে এ ব্যবধান প্রায় ৪৮ হাজার টাকায় পৌঁছাবে। এতে একদিকে বড় শিল্পগোষ্ঠী সুবিধা পেলেও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তিনি দাবি করেন, আরডির কারণে বছরে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউল্লাহ বলেন, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পেলে উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়বে—যা মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াবে।
বিআইএসআইএর মতে, সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল কৃষিযন্ত্র, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, বৈদ্যুতিক পণ্য, স্টিল ফার্নিচার, পাইপ, অবকাঠামো ও জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। তাই কাঁচামালের ওপর বাড়তি শুল্ক দেশের প্রায় চার লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং সংশ্লিষ্ট লাখো মানুষের জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।