শত্রু যেভাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হয়

মানুষের জীবনে সম্পর্ক যেমন আশীর্বাদ, তেমনি দ্বন্দ্বও একটি বাস্তবতা। পরিবার, সমাজ, কর্মক্ষেত্র কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে মতভেদ, ভুল বোঝাবুঝি ও শত্রুতার ঘটনা ঘটতেই পারে। সাধারণত মানুষ মন্দ আচরণের জবাবে মন্দ আচরণ করতেই অভ্যস্ত। কেউ কষ্ট দিলে আমরা কষ্ট দিতে চাই, কেউ অপমান করলে প্রতিশোধ নিতে চাই। কিন্তু ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তির ঊর্ধ্বে উঠে এক মহৎ চরিত্র গঠনের শিক্ষা দেয়। কোরআন মানুষকে এমন এক নীতি শিখিয়েছে, যা বিরোধ মিটানোর সঙ্গে সঙ্গে শত্রুকে অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত করে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দকে প্রতিহত করো তা দ্বারা, যা উৎকৃষ্টতর। ফলে তোমার ও যার মধ্যে শত্রুতা রয়েছে সে হয়ে যাবে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো।’ (সুরা ফুসসিলাত ৩৪)

এ আয়াত ইসলামের নৈতিক শিক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে মহান আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভালো ও মন্দ কখনো এক নয়। মানুষের আচরণ, চরিত্র ও কর্মের মধ্যেও এ পার্থক্য বিদ্যমান। তাই অন্যায় আচরণের প্রতিক্রিয়ায় একই ধরনের অন্যায় আচরণ প্রদর্শন করা একজন মুমিনের কাজ নয়। বরং তাকে এমন আচরণ করতে বলা হয়েছে, যা আরও উত্তম, মহৎ ও সুন্দর।

মানুষ যখন অপমানের জবাবে ধৈর্যধারণ করে, কঠোর কথার উত্তরে কোমল ভাষায় কথা বলে, রাগের পরিবর্তে ক্ষমা প্রদর্শন করে, তখন সে শুধু নিজের চরিত্রের মহত্ত্বই প্রকাশ করে না, বরং অপর পক্ষের হৃদয়েও পরিবর্তনের পথ খুলে দেয়। কারণ ভালো ব্যবহার এমন এক শক্তি, যা অনেক সময় কঠোর হৃদয়কেও নরম করে দিতে পারে।

রাসুল (সা.)-এর জীবন এ শিক্ষার বাস্তব উদাহরণে পরিপূর্ণ। মক্কার কাফেররা তাকে উপহাস করেছে, নির্যাতন করেছে, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। তবুও তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হননি। বরং ক্ষমা, দয়া ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি চাইলে তার নির্যাতনকারীদের কঠোর শাস্তি দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি বলেছিলেন, ‘আজ তোমাদের প্রতি কোনো ভর্ৎসনা নেই।’ এই মহানুভবতার কারণেই বহু মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল।

লেখক : ইসলামি গবেষক