যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি বানচালের চেষ্টা করছে ইসরায়েল!

ইসরায়েলি নেতৃত্বের ওপর সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ না করার জন্য জোটসঙ্গী কট্টর ডানপন্থী দলগুলো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। 

এ অবস্থায় রাজনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে নেতানিয়াহু এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য হওয়া সমঝোতা দুর্বল করে দিতে পারে কিংবা পুরো শান্তি প্রক্রিয়াই ভণ্ডুল করে দিতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হোয়াইট হাউসকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।

গণমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, এই চাপের ফলে ইসরায়েল এমন সামরিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারে যা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, উত্তেজনা কমানো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সমঝোতার ভিত্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দিহান।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ পাঠ দেখতে চাইলেও ওয়াশিংটন তা প্রকাশে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে। গত শুক্রবার (১৯জুন) ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে নতুন করে আরও অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পরবর্তী বৈঠক স্থগিত হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে কূটনৈতিক অগ্রগতি কঠিন হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, আঞ্চলিক সংঘাত আবার তীব্র হলে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন বর্তমানে একদিকে ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়, অন্যদিকে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগও সামাল দিতে হচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের সম্পর্ক আগামী কয়েক সপ্তাহে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।