নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ (এসএইচএসএস) গত বৃহস্পতিবার(১৮জুন) এনএসইউ এসএইচএসএস ডিস্টিংগুইশড লেকচার সিরিজের আরেকটি পর্ব আয়োজন করে।
‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ শীর্ষক ওই আলোচনায় মূল বক্তা ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত কারমা হামু দর্জি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ। সূচনা বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম।
রাষ্ট্রদূত কারমা হামু দর্জি তাঁর উপস্থাপনায় ভুটানের প্রশাসনিক ব্যবস্থা পরিচয় করিয়ে দেন এবং দেশটির আইনসভা ও সাংস্কৃতিক কাঠামো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা তুলে ধরেন। তিনি ভুটানের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা নিয়ে আলোচনা করেন এবং বিশ্ব সুখ সূচক (জিএনএইচ) এর নয়টি ক্ষেত্র ও ৩৩টি সূচকের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। এছাড়া তিনি জিএনএইচ জরিপে ব্যবহৃত প্রশ্নমালা উপস্থাপন করেন এবং একটি সমন্বিত স্কোরিং পদ্ধতির মাধ্যমে কীভাবে সুখ পরিমাপ করা হয় তা ব্যাখ্যা করেন।
অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, প্রায় ৮ লাখ জনসংখ্যার একটি ছোট দেশ হয়েও ভুটান বিশ্বের প্রায় ৮ বিলিয়ন মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভুটানের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিজেদের উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত কার্যকরভাবে উপস্থাপন করেছে। বিশ্ব যখন ক্রমেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ও সম্পদ কেন্দ্রীকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ভুটান সেখানে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছে। বিশেষ করে জলবায়ু, পরিবেশ এবং মানব উন্নয়ন সূচকের ক্ষেত্রে ভুটানের অবস্থান অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়।
অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ বলেন, ভুটান পরিবেশ সংরক্ষণে সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিত পদক্ষেপ গ্রহণকারী একটি দেশ। তাঁর মতে, ভুটানের পদ্ধতি, দৃষ্টিভঙ্গি, উদাহরণ এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবেশ সুরক্ষার প্রচেষ্টা জোরদার করতে বাংলাদেশেও অনুরূপ উদ্যোগ ও নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, ভুটান দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখেছে। তিনি বলেন, সাধারণত আমরা ইতিবাচক সূচক খুঁজতে গেলে পশ্চিমা বিশ্বের দিকে তাকাই। কিন্তু সংস্কৃতি, সামাজিক সংহতি এবং সুখের প্রশ্নে ভুটান অনুসরণযোগ্য একটি উল্লেখযোগ্য মডেল।
তিনি আরও বলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী, এবং ভুটান হলো এই অঞ্চলের এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টি সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায়।
উপস্থাপনার পর মূল বক্তা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের সঙ্গে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। এ পর্বে সমসাময়িক সমাজে গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেসের ধারণা, এর প্রাসঙ্গিকতা এবং উন্নয়ন-ভাবনায় সুখের পরিমাপ নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় হয়। উপস্থিত সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।