বর্তমান সময়ে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্থূলতার মতো অসংক্রামক রোগ দ্রুত বাড়ছে। এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ক্ষেত্রে বিশ^জুড়ে সমাদৃত খাদ্য পরিকল্পনাগুলোর একটি হলো ড্যাশ ডায়েট। যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে তৈরি বিশেষ খাদ্যাভ্যাস।
ড্যাশ ডায়েট মূলত ফলমূল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম, মাছ এবং কম চর্বিযুক্ত দুধজাত খাবারের ওপর গুরুত্ব দেয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয়, লাল মাংস ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই ডায়েটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি কঠিন কোনো ডায়েট নয়। এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস রক্তচাপ কমাতে, হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি, হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকা মানুষ, ডায়াবেটিস রোগী, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভোগা ব্যক্তি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে আগ্রহীদের জন্য ড্যাশ ডায়েট বিশেষভাবে উপকারী। এমনকি যাদের কোনো রোগ নেই, তারাও ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের ডায়েট বেছে নিতে পারেন।
সাধারণভাবে ড্যাশ ডায়েট নিরাপদ।
তবে হঠাৎ করে প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার খেলে কারও কারও পেটে গ্যাস, ফাঁপা ভাব বা অস্বস্তি হতে পারে। কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ড্যাশ ডায়েট আসলে বৈজ্ঞানিক ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যব্যবস্থা। প্রতিদিনের খাবারে ছোট ছোট পরিবর্তন এনে হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থ জীবনযাপনের জন্য ড্যাশ ডায়েট অনেক জনপ্রিয়।