বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে জাপানের দাপুটে জয় 

চলতি আসরে আগের ম্যাচে ডাচদের রুখে দেওয়া জাপানের জন্য ম্যাচটি ছিল নকআউটের রাস্তা সহজের। তবে পুরো বিশ্বের জন্য এই ম্যাচটি ছিল আলাদাভাবে নজরে। কেননা ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের হাজারতম ম্যাচ। মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্তেরেইয়ে ঐতিহাসিক এই ম্যাচে তিউনিসিয়াকে নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করলো জাপান। ৪-০ ব্যবধানে বড় জয় নকআউটের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে থাকল হাজিমে মোরিয়াসুর দলটি।

বিশ্বকাপের এই ১,০০০তম ঐতিহাসিক ম্যাচটি রাঙাতে সোনালী কারুকাজ ও বিশেষ ব্যাজ সংবলিত স্মরণীয় জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন রেফারিরা। তবে মাঠের লড়াইয়ে রোমানিয়ান রেফারি ইস্তভান কোভাক্সের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ম্যাচের শুরুতেই আলোচনার জন্ম দেয়। ম্যাচের মাত্র ৭০ সেকেন্ডের মাথায় জাপানের সেন্টাল ফরোয়ার্ড আয়াসে উইয়েদাকে পেনাল্টি বক্সের ভেতর ফাউল করা হলেও রেফারি কিংবা ভিএআর কেউই তাতে সাড়া দেয়নি। তবে সেই বিতর্ক জাপানের জয়রথ থামাতে পারেনি। ম্যাচের মাত্র ৪ মিনিটেই লিড নেয় ‘ব্লু সামুরাই’রা। উইং-ব্যাক কেইতো নাকামুরার নিচু ক্রস তিউনিসিয়ার ডিফেন্সে লেগে দাইচি কামাদার পায়ে জমা হলে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান তিনি।

ম্যাচের ৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই ম্যাচের সেরা তারকা আয়াসে উইয়েদা। ডি-বক্সের বাইরে ফাঁকায় বল পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত এক শটে তিউনিসিয়া ডিফেন্ডার মোনতাসার তালবির দুই পায়ের মাঝ দিয়ে বল জালে পাঠান এই স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এশিয়ান পরাশক্তিরা। ম্যাচের দ্বিতীয় হাফেও জাপানের আক্রমণের ধার কমেনি। ৬৯ মিনিটে উইয়েদার ফ্লিক থেকে বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলের তৃতীয় গোলটি করেন জুনিয়া ইতো। আর ৮৩ মিনিটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে তিউনিসিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন ম্যাচের হিরো উইয়েদা।

অন্যদিকে, এই ঐতিহাসিক মাইলফলকের ম্যাচটি তিউনিসিয়ার জন্য এক দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর কোচ সাবরি লামুশিতে বরখাস্ত করে তড়িঘড়ি করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আফ্রিকান ফুটবলের চেনা মাস্টারমাইন্ড হার্ভে রেনার্ডকে। মাত্র তিন দিনের প্রস্তুতি নিয়ে তাঁর সিগনেচার সাদা শার্ট পরে ডাগআউটে দাঁড়িয়েছিলেন এই ফরাসি কোচ। কিন্তু জাপানের হাই-প্রেসিং ও গতিময় ফুটবলের সামনে রেনার্ডের সমস্ত কৌশল মার খেয়ে যায়। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আইপ্যাডে রিপ্লে দেখে ডাগআউটে রেনার্ডের অসহায় দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।

গ্রুপ ‘এফ’-এর দিনের অন্য ম্যাচে সুইডেনকে ৫-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। ফলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে টেবিলের শীর্ষে ডাচরা, আর সমান ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দুইয়ে অবস্থান করছে জাপান। অন্যদিকে টানা দুই ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিশ্চিত হলো তিউনিসিয়ার। নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করতে জাপান তাদের শেষ ম্যাচে লড়বে সুইডেনের বিপক্ষে, আর তিউনিসিয়া কেবলই বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সারতে মুখোমুখি হবে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের।