প্রায় ছয় সপ্তাহের বিরতির পর আবারও দেশের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শুরু করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের পর তেল লোডিং কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে খারগ দ্বীপের সি আইল্যান্ড টার্মিনালে তিনটি বৃহৎ তেলবাহী জাহাজ বা ভিএলসিসি অবস্থান করছে। প্রতিটি জাহাজ প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিবহন করতে সক্ষম। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তিনটির মধ্যে দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে জেটিতে ভিড়েছে এবং তেল লোড করছে, আর তৃতীয় জাহাজটি টার্মিনালের দিকে এগিয়ে আসছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত টার্মিনালের জেটিগুলো খালি ছিল। মে মাসের পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্রে বড় জাহাজের উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। সেই সুযোগে ইরান দ্রুত তেল রপ্তানি কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে চাবাহার বন্দরের কাছেও কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ অবস্থান করে প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করেছে বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক আন্তর্জাতিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার এড়িয়ে চললেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ইরানও পর্যায়ক্রমে তেলবাহী জাহাজগুলোকে আবার পারস্য উপসাগরে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, ‘স্ট্রিম’, ‘ইম্পালা’ এবং ‘লরেন ২’ নামের তিনটি তেলবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে।
খারগ দ্বীপ ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, উপসাগরের পূর্বাঞ্চলে অপেক্ষমাণ আরও অন্তত ২০টি জাহাজ পর্যায়ক্রমে লোডিং কার্যক্রমে যুক্ত হলে আগামী দিনগুলোতে ইরানের তেল রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।