চার বছর পর উল্টোভাগ্য: এবার জাপান গোল পেলো না

মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ১,০০০তম ম্যাচে তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল জাপান। ম্যাচটিতে ৪-০ ব্যবধানের বড় জয় পেলেও, একটি গোললাইন সিদ্ধান্ত পুরো ফুটবল বিশ্বকে মনে করিয়ে দিল চার বছর আগের এক রোমাঞ্চকর ও বিতর্কিত ইতিহাস।

ম্যাচে তখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে জাপান। কর্নার থেকে আসা একটি চমৎকার হেডার গোললাইন বরাবর পাঠিয়েছিলেন জাপানি ফরোয়ার্ড। তিউনিসিয়ার গোলকিপার আয়মেন ডাহমেন দারুণ এক ডাইভ দিয়ে বলটি পোস্টে লাগিয়ে লাইনের ওপর থেকেই ফিরিয়ে দেন। খালি চোখে মনে হচ্ছিল বলটি হয়তো পুরো দাগ অতিক্রম করেছে, কিন্তু প্রযুক্তির রায় ছিল ভিন্ন।

এবারের বিশ্বকাপে বলের ভেতরে থাকা বিশেষ চিপ ও গোললাইন প্রযুক্তির কল্যাণে রেফারি কোনো ভিএআর রিভিউ ছাড়াই জানিয়ে দেন—বল লাইনের ভেতরে যায়নি। মাত্র কয়েক মিলিমিটারের জন্য গোলবঞ্চিত হয় ব্লু সামুরাইরা। তবে ম্যাচের শেষ ফলাফলে এটি কোনো প্রভাব ফেলেনি।

স্মৃতিতে ২০২২ সালের সেই স্পেন ম্যাচ

রবিবারের এই মিলিমিটারের হিসাব ফুটবলপ্রেমীদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে। সেবার স্পেনের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে ঠিক এমনই এক মিলিমিটারের মারপ্যাঁচে ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছিল জাপানের, যার ফলে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছিল জার্মানি।

জাপানের গোল পাওয়ার সেই দৃশ্য

ম্যাচের ৫১ মিনিটে কাওরু মিতোমার পাস থেকে গোল করেছিলেন আও তানাকা। মাঠের রেফারি প্রথমে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন যে মিতোমা ক্রস করার আগেই বলটি গোললাইন পেরিয়ে মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিল। কিন্তু ভিএআরের নাটকীয় রিভিউতে সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং গোলটি বহাল রাখা হয়।

ফুটবলের নিয়ম ও ফিফার বিতর্ক

ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, বলের নিচের অংশ লাইনে স্পর্শ না করলেও, উপরিস্থিত বক্রতা যদি লাইনের সামান্যতম অংশও স্পর্শ করে বা লাইনের সমান্তরালে থাকে, তবে বলটি লাইনের ভেতরেই ধরা হয়। স্পেনের বিপক্ষে গোললাইন ক্যামেরা বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছিল, বলের ঠিক ওই সামান্য অংশটুকুই লাইনের ওপর ছিল।

তবে সেই ঘটনাটি ফিফার প্রচার ও যোগাযোগের বড় একটি দুর্বলতা উন্মোচন করেছিল। টিভি সম্প্রচারক বা দর্শকদের তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ দেখানো হয়নি। ম্যাচ শেষ হওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর ফিফা অফিশিয়াল ক্যামেরার সেই নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেলটি টুইট করে শেয়ার করেছিল। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহার হলেও, চার বছর আগের সেই রোমাঞ্চকর রাতটি ফুটবল ইতিহাস চিরকাল মনে রাখবে।