চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বর নিয়ে ভর্তি হওয়া আয়াতুল ইসলাম নামে এক শিশু মৃত্যু ঘটনাকে ঘিরে অভিভাবকদের মাঝে উত্তেজনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুর মৃত্যু পর হাসপাতালের নার্স লুনা আক্তার ও হাসপাতালের আরএমও ডা. মুমিনুল ইসলামের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় তারা। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেন।
মৃত দুইমাস বয়সী আয়াতুল ইসলাম পূর্ব কাহারঘোনা এলাকার সৈয়দ আহমদ ও আছমা বেগম দম্পত্তির ছেলে।
মৃত শিশুর আত্নীয় ব্যবসায়ী আবদুর রহিম বলেন, শনিবার রাতে শিশু আয়াতকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রবিবার সকালে শিশুটিকে দেওয়ার জন্য ফার্মেসি থেকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে ইনজেকশন কিনে দিলেও নার্স সেটা না দিয়ে অন্য একটা ইনজেকশন পুশ। তাতে শিশুটির অবস্থা খারাপ হলে নার্স সে দেওয়া ইনজেকশনের কভার সহ নিয়ে আত্নগোপন করে। ফলে শিশুটি মারা যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন ।
পরে মৃত শিশুটিকে নিয়ে থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইউএনও অনুপস্থিতিতে ভুক্তভোগী বাবা-মা ও স্বজনসহ পুলিশ ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানি আকনসহ একটা বৈঠক করেন। শেষে ভুল চিকিৎসা দেওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে অভিযোগ দাখিল করে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান তারা।
বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও আরএমও ডা. মুমিনুল হক জানান, শনিবার রাতে নিউমোনিয়া আক্রান্ত হলে শিশুটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিল। রবিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হলে ,তার স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রবিউল হক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি শিশুর মৃত্যু হওয়ায় শিশুর আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছিল । পরে শিশুর স্বজনেরা ইউএনওর মাধ্যমে এক অভিযোগ দাখিল করে।