১১ মাসে রাজস্ব আদায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোট ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা বেশি এবং এটি এনবিআরের জন্য একটি রেকর্ড রাজস্ব আদায়।

তবে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় করেও কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি সংস্থাটি। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮১ হাজার কোটি টাকা আদায় কম হয়েছে। আজ রবিবার (২১ জুন) রাতে এনবিআর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে রাজস্ব আদায়ের হালনাগাদ তথ্যে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

এনবিআর আরও জানায়, চলতি জুন মাসের প্রথম ২০ দিনে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এরমাধ্যমে ২০ জুন পর্যন্ত ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। যা বিগত অর্থ বছরের মোট আদায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। জুন মাসের শেষ ১০ দিনে আরো ২৫ হাজার টাকা আদায়ের মাধ্যমে চলতি অর্থ বছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আশা করছে। সেক্ষেত্রে চলতি অর্থ বছরের রাজস্ব আদায়ের পরিমান লক্ষ্যমাত্রা হতে ৮৮ হাজার কোটি টাকা কম হলেও বিগত অর্থ বছরের তুলনায় ৪৩ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।

এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলতি অর্থ বছরের এগার মাসে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা, যা একই সময়কালের অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের প্রথম ১১ মাসে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ হিসাবে বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশেরও বেশি। এরমধ্যে কাস্টমস অনুবিভাগের আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.০৮%। ভ্যাট অনুবিভাগে ১০.০৫% ও আয়কর অনুবিভাগে ১২.৫৪% প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে প্রথম ১১ মাসে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। এ হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে ১৮.৪২ শতাংশ।

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজস্ব আদায়ের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য ইতোমধ্যে আয়কর, ভ্যাট এবং কাস্টমস অনুবিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। উক্ত টাস্কফোর্স তিনটি ইতোমধ্যে আপীল, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সহ কর আদায় বৃদ্ধির নানামুখী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 

কর ফাঁকি উদঘাটন পূর্বক রাজস্ব পুনরুদ্ধার, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নির্বাচিত অডিট মামলা সমূহ দ্রুত নিষ্পত্তিপূর্বক দাবি সৃষ্টি ও কর আদায়, উৎসে আয়কর এবং উৎসে মূসক আদায় কার্যক্রমের মনিটরিং, কাস্টমস হাউসের পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট কার্যক্রম এবং রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম জোরদার এবং উচ্চ ঝুকিপূর্ণ করদাতাদের আয়কর এবং ভ্যাট অডিট যুগপৎভাবে সম্পন্ন করার ফলপ্রসু ও কার্যকর উদ্যোগের ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সার্বিক কার্যক্রমে গতির সঞ্চার হয়েছে।