এবার এআই-এর শিকার জাহিদ হাসান, মামলার হুশিয়ারি

গ্ল্যামার দুনিয়ায় এখন সবচয়ে ভয়ানক আতঙ্কের নাম এআই বা (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)। এর অপব্যবহার বা ডিপফেকের শিকার হয়েছেন হাল সময়ের পপস্টার টেইলর সুইফট, হলিউড তারকা অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন ও টম হ্যাঙ্কস-সহ বিনোদন অঙ্গনের চার হাজারেরও বেশি তারকা। এরইমধ্যে অনেকে ফুঁসে উঠেছেন এমনকি মামলাও করেছেন। 

এবার এই ডিপফেকের শিকার হলেন বাংলাদেশের জাঁদরেল অভিনেতা ও নির্মাতা জাহিদ হাসান। এ আই দিয়ে করা এই তারকার একটি কৃত্রিম ভিডিও ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে নেটদুনিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যায়, জাহিদ হাসান কান্নাজড়িত কণ্ঠে কয়েকটি কথা বলছেন। পাশাপাশি তার স্ত্রী জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ-এর কয়েকটি কৃত্রিম ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। 

ওই ভিডিওতে বলা হয়েছে, স্ত্রী মৌ এখন জাহিদ হাসানের সঙ্গে থাকতে চাচ্ছেন না। এই এখন বয়সে এসে তাকে ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করে বেড়াচ্ছেন। ‘BizBuzz’ নামের একটি 'ভুঁইফোড়'ইউটিউব চ্যানলের এই প্রতিবেদনটি দেখে উল্টো চ্যানেলের বিরুদ্ধেই নানারকম নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন নেটিজেনরা। তাদের প্রায় সবাই জাহিদ হাসান-মৌ’র মতো সুখী দম্পতিকে নিয়ে এমন বানোয়াট তথ্য ছড়ানো ও ‍বিকৃত ছবি ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন কমেন্ট বক্সে। 

বিষয়টি নিয়ে সোমবার (২২ জুন) জাহিদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অনেকটা ভারাক্রান্ত মনে ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘এসব কী হচ্ছে? আমি অলরেডি ভিডিওটি দেখেছি। সেখানে কেবল ওই রিপোর্টার নিজেই সব কথা বলেছেন। ফুটেজে কেবল আমার একটা বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা হচ্ছে আমাদের সহকর্মী শামস সুমনের মৃত্যুর সময় মিডিয়াতে আমি যেভাবে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথা বলেছিলাম। বক্তব্যর মূল অংশ ফেলে আমার কথাগুলোকে বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।’ 

জাহিদ হাসান আরও বলেন, ‘আমি বার বার বলে আসছি, দাম্পত্য জীবনে আমরা অনেক সুখে আছি। এই ঘটনায় আমি সত্যিই খুব মর্মাহত। কোন দেশে বাস করছি আমরা। ইতিমধ্যে দুয়েকজন সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমি মন্ত্রণালয়েও অবহতি করব। পাশাপাশি দেশের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করব। এর বিরুদ্ধে সবার সোচ্চার হওয়া দরকার। শুধু শোবিজ তারকাই নয়, সব অঙ্গনের মানুষেরই এই এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার থেকে সতর্ক হওয়া জরুরি।’