বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তর আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ বিতর্ক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। রানার-আপ হয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
গত ১৯ জুন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) অডিটরিয়ামে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বটি আগামী ৯ জুলাই বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে।
এবারের প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অভিযোজনের চেয়ে প্রশমনই অধিক গুরুত্বপূর্ণ’। বিষয়টির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। তথ্যনির্ভর ও যুক্তিসমৃদ্ধ বিতর্ক শেষে বিচারকদের রায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়ী হয়।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা গত ১১ মে শুরু হয়। দেশের আটটি বিভাগ থেকে চারটি করে মোট ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ এতে অংশ নেয়। প্রথম পর্ব বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্ব ঢাকার পরিবেশ অধিদপ্তর অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেরা দুই দল নিয়ে বিটিভি অডিটরিয়ামে চূড়ান্ত পর্ব আয়োজন করা হয়।
চূড়ান্ত পর্বে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন) মির্জা শওকত আলী।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP), Nationally Determined Contribution (NDC) ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (BCCSAP) -এর আলোকে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, বনাঞ্চল সম্প্রসারণ, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং প্রকৃতিনির্ভর সমাধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের বৈশ্বিক আহ্বান। পরিবেশ অধিদপ্তর আয়োজিত এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, যুক্তিবোধ ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিতার্কিক, প্রশিক্ষক, শিক্ষক, বিচারকমণ্ডলী এবং সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের ধন্যবাদ জানানো হয়। প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ এবং সহযোগী সংগঠন রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং অর্গানাইজেশন (RUDO)-এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।