ফুটবল বিশ্বে রেকর্ড আর লিওনেল মেসি যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ২০২৬ বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলের কীর্তিতে ভাগ বসিয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। আজ গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ক্লোসাকে ছাড়িয়ে এককভাবে চূড়ায় ওঠার সুবর্ণ সুযোগ আসে তাঁর সামনে। ম্যাচের ৩ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর লাউতারো মার্তিনেস ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আলবিসেলেস্তেরা।
তবে স্পট-কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়ে প্রথম দফায় সুযোগটি হাতছাড়া করেন মেসি। কিন্তু যার পা জুটিতে ফুটবল বিধাতা এত জাদু দিয়েছেন, তাঁকে কি আর বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়? ম্যাচের ৩৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে ফাকুন্দো মেদিনার বাড়ানো পাস থিয়াগো আলমাদা ডামি করে ছেড়ে দিলে, দারুণ এক শটে লক্ষ্যভেদ করেন এলএমটেন। এই নান্দনিক গোলের সুবাদে ক্লোসাকে টপকে ১৭ গোল নিয়ে এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসের এককভাবে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি। ১৬ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছেন জার্মান কিংবদন্তি ক্লোসা।
গোলের আনন্দের মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড
মাইলফলক ছোঁয়ার এই ঐতিহাসিক ম্যাচে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের পাতায়ও নাম উঠেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়কের। আর সেটি এসেছে ম্যাচের শুরুতে তাঁর ওই পেনাল্টি মিসের সূত্র ধরে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি নষ্ট করার পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিস করার রেকর্ডটি এককভাবে মেসির নামের পাশে বসে গেছে।
বিশ্বমঞ্চে এটি ছিল মেসির তৃতীয় পেনাল্টি মিস। এর আগে ঘানার সাবেক তারকা স্ট্রাইকার আসামোয়াহ জিয়ানের সাথে যৌথভাবে ২টি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডে সবার ওপরে ছিলেন তিনি। আজ জিয়ানকে ছাড়িয়ে এই তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠলেন মেসি।
বিশ্বকাপে মেসির পেনাল্টি মিসের খতিয়ান ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০১৮ সালে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার স্পট-কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। এরপর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর নেওয়া পেনাল্টি শট রুখে দিয়েছিলেন পোলিশ গোলরক্ষক ভয়চেক সেজনি। তবে পূর্বের দুইবারের মতো এবার কোনো গোলরক্ষককে কষ্ট করতে হয়নি; অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শটটি তিনি নিজেই পোস্টের বাইরে মেরে সুযোগ হাতছাড়া করেন।
ট্রান্সফারমার্কেটের হিসেবে, টাইব্রেকার বা শুটআউট বাদে ক্যারিয়ারে মোট ১৪৯টি পেনাল্টি শট নিয়ে এটি মেসির ৩৩তম মিস। সব মিলিয়ে একবিংশ শতাব্দীর সেরা এই ফুটবলারের জন্য আজ ডালাসের মাঠটি যেমন পরম আনন্দের, তেমনই কিছুটা আক্ষেপেরও।