লাল পাসপোর্ট নিলেন উপদেষ্টা ডা. জাহেদ

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, নীতি ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান অবশেষে কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট নিয়েছেন। উপদেষ্টার আবেদন পাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার জন্য লাল পাসপোর্ট ইস্যু করেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
 
ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশনের একটি সম্মেলনের জন্য গত ১৪ জুন দিল্লি গিয়ে সম্মেলনে যোগ না দিয়েই ঢাকা ফেরার পর উপদেষ্টার লাল পাসপোর্টের বিষয়টি সামনে আসে। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিযুক্ত উপদেষ্টা সাধারণ (সবুজ) পাসপোর্টে সরকারি এ সফরে গিয়েছিলেন।

১৬ জুন ঢাকায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা বলেন, দিল্লি বিমানবন্দরে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অসৌজন্যমূলক ও হয়রানিমূলক আচরণের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে তিনি নিজেই সফর বাতিল করে শ্রীলঙ্কা হয়ে দেশে ফেরেন। 

এ ঘটনার জেরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে সরকারের তীব্র অসন্তোষের কথা জানানো হয়। 

প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় থাকা একজন উপদেষ্টা লাল পাসপোর্ট না নিয়ে  সাধারণ (সবুজ) পাসপোর্টে সরকারি সফরে যাওয়ায় তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নিয়ে দিল্লি বিমানবন্দরে বিভ্রাট তৈরি হয়ে থাকতে পারে, এমনটি কেউ কেউ বলে থাকেন। তবে উপদেষ্টা নিজে এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকেরা এমন আশঙ্কার দিকটি নাকচ করে দিয়েছেন। 

তারা বলেন, দিল্লিতে উপদেষ্টার যাওয়ার বিষয়টি তিনি সেখানকার বিমানবন্দরে অবতরণের ৪৮ ঘন্টা আগেই ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে দেওয়া একটি কূটনৈতিক পত্রে দেশটির সরকারকে জানানো হয়েছে। আর দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহসহ অন্তত দুইজন কর্মকর্তা উপদেষ্টার সফর উপলক্ষে সেদিন বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। 

লাল পাসপোর্টের বিষয়ে গত ১৬ জুনের ব্রিফিংয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা বলেন, কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন যে (দিল্লিতে হয়রানির ক্ষেত্রে) পাসপোর্ট কারণ ছিল; (আসলে) পাসপোর্ট কারণ ছিল না। 

লাল পাসপোর্টকে একটি বিশেষ সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি আমার জায়গা থেকে এটা আমি নিতে পারি - চাইলে। কিন্তু এটা নিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।’