ঝুঁকিতে আদ্‌‌-দ্বীনের ৯৪০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

সরকারি আদেশে আদ‌্‌-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন আদ‌্‌-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের দেশি-বিদেশি ৯৪০ শিক্ষার্থী। একই প্রতিষ্ঠান থেকে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় এই শিক্ষার্থীদের ডিগ্রির কার্যকারিতা হারানোর গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ২৯৫ জন বিদেশি (অধিকাংশই ভারতীয়) এবং ৬৪৫ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের বিএমডিসি ভর্তি নীতিমালার ধারা ৭.০-এ বলা হয়েছে, এমবিবিএস বা বিডিএস কোর্সের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) অনুমোদিত চলতি কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে। কোর্স শেষে স্ব স্ব মেডিকেল বা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে বিএমডিসি নির্ধারিত লগবুক অনুযায়ী এক বছর ইন্টার্নশিপ সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। কোনোভাবেই অন্য মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নশিপ মাইগ্রেশন করা যাবে না।

২০২৪-২৫ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালায় এই বিধান রয়েছে ৭.১ ধারায়। ফলে শুধু ২৯৫ বিদেশি শিক্ষার্থীই নয়, মূলত ডিগ্রির কার্যকারিতা হারানোর ঝুঁকিতে এখন আদ্‌‌-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ৬৪৫ জন শিক্ষার্থীর প্রায় সবাই।

দেশটির ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (ফরেন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট লাইসেন্সিয়েট) রেগুলেশন্স, ২০২১-এর ৪(ক)(২) ধারা অনুযায়ী, একই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন না করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এ নিয়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা গত শনিবার ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে সোমবার সকাল থেকে অপেক্ষা করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাক্ষাতের জন্য। সেখানেও কারো সাক্ষাৎ পাননি তারা। একইদিন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরেও যান এসব শিক্ষার্থী। সেখানে পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলমের সঙ্গে তারা কথা বলেন। 

এদিকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও একই হাসপাতালে ইন্টার্নশিপের বাধ্যবাধকতার কথা স্বীকার করে বিএমডিসির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে একটি হাসপাতালের। কিন্তু এই হাসপাতাল শুধু সেবা দেয় না, এই হাসপাতাল শিক্ষাও দেয়। এটা বন্ধ করে পরিস্থিতি আরও জটিল করা হলো। একটা সাধারণ সমস্যাকে জটিল সমস্যায় রূপ দেওয়া হলো। আমাদের নীতিতে আছে, যে যেখানে পড়বে, সেখান থেকেই ইন্টার্নশিপ শেষ করবে। এমনকি শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ দেশেও একই চাহিদা যে, যেখান থেকে পড়বে, সে সেখান থেকেই ইন্টার্নশিপ করবে। সুতরাং সরকারকেই এখনই সুরাহায় যেতে হবে। তাহলে সমস্যার সমাধান হবে। না হলে সমস্যা আরও জটিল হবে।

লাইসেন্স বাতিলের ঘটনা দেশের স্বাস্থ্যশিক্ষার জন্য অশনি সংকেত বলেও আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আমরা মনে করি এই লাইসেন্স বাতিল দেশের মেডিকেল এডুকেশনের ক্ষতি ডেকে আনবে। আপনারা জেনে থাকবেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের যে নির্ধারিত আসন ছিল, তা ইতিমধ্যে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এটা আমাদের মেডিকেল শিক্ষার জন্য মহাঅশনি।