শেখ হাসিনাকে আয়নাঘরে নেওয়ার দাবি বিএনপি’র এমপির

ভারত থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে ‘আয়নাঘরে’ নেওয়ার দাবি সংসদে জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ওই সংসদ সদস্য এ দাবি জানান।

রেহানা আক্তার বলেন, কিছুদিন আগে একটি ‘আয়নাঘর’ দেখেছেন, সেখানে বিরোধী দলের (আওয়ামী লীগের আমলের বিরোধী দল) সদস্যদের ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো। আমার দাবি, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে, ওই চেয়ারে বসাইয়া-শোয়াইয়া, শেখ হাসিনাকে ইলেকট্রিক শক দিতে হবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ঠেকাতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান।

বর্তমান প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী আরেকটি আন্দোলন-বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হওয়ার যে আহ্বান জানাচ্ছে, তার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আপনারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন। প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। আপনাদের অনৈক্যের কারণে যদি দানব হাসিনা, আল্লাহ না করুক, আবারও ফিরে আসে, যারা ফেসবুকের প্রোফাইল লাল করেছিলেন তাদের জীবনটা কালো করে ছাড়বে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফেনীতে যাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন জানিয়ে রেহানা আক্তার বলেন, তাঁরা (পরিবারের সদস্যরা) পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, পুলিশ প্রশাসন আসামিদের ধরছে না। ধরলেও আদালত জামিন দিয়ে দিয়েছে। তাঁরা বলছেন, ‘আমরা আপনাদের কাছে কিছু চাই না, আমরা শুধু সন্তান হত্যার বিচার চাই।’

যেসব ব্যাংকের মালিক ‘ব্যাংক গিলে খেয়েছে’, বিদেশে আরামে-আয়েশে জীবন-যাপন করছে, তাঁদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

উল্লেখ্য আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনকালে বিরোধী মত দমনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যালয়ে তৈরি করা প্রকোষ্ঠগুলো ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়। সেখানে অনেককে বন্দী করে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ‘আয়নাঘর’গুলো বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানায়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান। তাঁকে ফেরত আনতে বাংলাদেশ সরকার তৎপরতা চালালেও এখনো ভারতের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।