নানা কারণে কখনো কখনো শিশুরা স্ট্রেসের শিকার হতে পারে। এই সময় তারা কী করবে বুঝতে পারে না। তাই বাবা-মা হিসেবে এই সময়ে আপনার কী করণীয় জানালেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট
সাদিয়া সামছি
অনেক সময় বড়রা বুঝতে পারে না স্কুল, বন্ধুবান্ধব, কিংবা পরিবারের নানা সমস্যা শিশুর মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলে। ছোটদের অভিজ্ঞতার ঝুলি সীমিত থাকে। নতুন ঘটনা বা পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে তারা বুঝতেই পারে না কীভাবে প্রকাশ করা উচিত। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে বা যুক্তি দিয়ে বোঝাতে পারে না। এর ফলে বড়দের কাছেও গুরুত্ব পায় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা বড় হয় এবং নতুন নতুন পরিবেশ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। কিন্তু সব শিশুর লড়াই করার মানসিকতা কিংবা ব্যক্তিত্ব সমান থাকে না। কোনো কোনো শিশু হয়তো অল্পতেই ভেঙে পড়ে কোনো কোনো শিশুর কিছুই হয় না। ছোটদের মানসিক চাপ অনুধাবন করার জন্য ভাবতে হবে ছোটদের মতো করেই। এক্ষেত্রে বাবা-মা, পরিবারের অন্য সদস্যারা এবং স্কুলের শিক্ষকরা যদি যতœবান হন, তাহলে কিন্তু শিশুর পক্ষে স্ট্রেস কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
শিশুর স্ট্রেস কাটানোর উপায়
স্ট্রেস কমানোর ভালো উপায় গুড পেরেন্টিং। শিশুর সঙ্গে বন্ধুর মতো সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। শিশুর মন খারাপ ও ছোটখাটো প্রয়োজন বোঝার চেষ্টা করুন। শিশুকে বোঝান যে কোনো সমস্যায় আপনি ওর পাশে আছেন। তাকে কোয়ালিটিপূর্ণ সময় দেওয়া খুব দরকার। অফিসে গেলেও নিয়ম করে ফোন কলে শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। বাড়ি ফিরে শিশুর সঙ্গে গল্প করুন। সারা দিন কী কী করেছে গল্পের ছলে জেনে নিন। চেষ্টা করুন যে সময়টুকুই দেবেন তা যেন কোয়ালিটিপূর্ণ হয়। দিনের বেলা সম্ভব না হলেও রাতে পরিবারের সবাই একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে শিশুর সঙ্গে পরিবারের বন্ধনও দৃঢ় হবে। শুধু পড়াশোনা বা হোমওয়ার্কের মতো কথা সব সময় নয়, বরং চেষ্টা করুন ওর বন্ধুবান্ধব বা খেলাধুলা নিয়ে কথা বলুন। শিশু রোজ স্কুলে কী করে, কারা ওর বন্ধু, কে প্রিয় টিচার ইত্যাদি জেনে নিন। আপনি যদি ছোটখাটো বিষয়েও আগ্রহ দেখান, তাহলেই ও মন খুলে সব কথা শেয়ার করতে পারবে। দিনের মধ্যে আপনারও কোনো মজার ঘটনা থাকলে তার সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। যদি দেখেন শিশু কোনো কারণে খুব চুপচাপ বা মনমরা হয়ে আছে তাহলে ওর সঙ্গে বেশি করে ইন্টার্যাক্ট করুন। ও যাতে মন খুলে আপনাকে সব বলতে পারে তা দেখার দায়িত্ব কিন্তু আপনারই। এছাড়াও বাচ্চার প্রতি খেয়াল রাখুন। কিন্তু খবরদারি করা নয়। সন্তানকে স্বাধীনতা দিন। কিন্তু যদি বোঝেন ও কোনো সমস্যায় আছে তাহলে ওর সঙ্গে কথা বলে বোঝার চেষ্টা করুন। সন্তানকে উৎসাহ দিন। ওর কাজের প্রশংসা করুন। বাচ্চার যেন নিজের সম্পর্কে ভাবধারা যথেষ্ট পজেটিভ হয়। মনে রাখবেন আপনার নেগেটিভ মানসিকতা শিশুকে আরও বেশি স্ট্রেসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আপনি যত বেশি পজেটিভ থাকবেন বাচ্চার স্ট্রেস দূর করা তত সহজ হবে।