চুলের জাদুকরী যত্নে রাইস ওয়াটার

ঝলমলে, ঘন আর কোমরছোঁয়া লম্বা চুল কার না পছন্দ? কিন্তু দূষণ, মানসিক চাপ আর রাসায়নিক পণ্যের অতিরিক্ত ব্যবহারে চুলের বারোটা বাজতে বেশি সময় লাগে না। পার্লারের হাজার হাজার টাকার হেয়ার স্পা বা দামি প্রসাধনী সাময়িক কাজ করলেও, দীর্ঘমেয়াদে চুলের ক্ষতিই করে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে রূপচর্চাপ্রেমীদের নজর কেড়েছে অতি সাধারণ ঘরোয়া উপাদান ‘রাইস ওয়াটার’ বা চাল ধোয়া পানি।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বড় বড় বিউটি ব্র্যান্ড, সবখানেই এখন রাইস ওয়াটারের জয়জয়কার। বিশেষ করে কোরিয়ান এবং জাপানি নারীদের কাচের মতো উজ্জ্বল ত্বক এবং সিল্কি লম্বা চুলের অন্যতম প্রধান রহস্য কিন্তু এই উপাদানটিই। তবে ঘরোয়া উপায়ের কোনো সুনির্দিষ্ট বা জটিল বিজ্ঞান নেই। একেকজন এটি একেক পদ্ধতিতে তৈরি করেন এবং প্রতিটি পদ্ধতিই কম-বেশি কার্যকরী। সবচেয়ে সহজ এবং দারুণ কার্যকরী উপায়ে কীভাবে ঘরেই তৈরি করবেন ‘ফার্মেন্টেড’ বা গাঁজানো রাইস ওয়াটার এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন জেনে নিন।

চুলের জন্য রাইস ওয়াটার

চুলের যত্নে চাল ধোয়া পানির ব্যবহার কিন্তু নতুন নয়। প্রাচীনকালে জাপানের ‘হিয়ান’ আমলের নারীরা এই পানি দিয়ে চুল ধুতেন, যার ফলে তাদের চুল হতো লম্বা ও মজবুত।

আধুনিক বিজ্ঞানও বলছে, চালের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি, সি এবং ই। এছাড়া এতে থাকা ‘ইনোসিটল’ (ওহড়ংরঃড়ষ) নামক একটি উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত চুলকে ভেতর থেকে মেরামত করে এবং চুলকে ভবিষ্যৎ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। এর অ্যামিনো অ্যাসিড চুলের গোড়া শক্ত করে চুল পড়া এক ধাক্কায় কমিয়ে দেয়। চুলের স্বাস্থ্য ভালো করে দেয়।

প্রয়োজনীয় উপাদান

চাল ১ কাপ, পানি  ২ কাপ, ছাঁকনি চালের পানি আলাদা করার জন্য।

এয়ার-টাইট বা শক্ত ঢাকনাসহ কাচের বয়াম, এসেনশিয়াল অয়েল কয়েক ফোঁটা (যেকোনো একটা অয়েল পেপারমিন্ট, ল্যাভেন্ডার বা রোজমেরি)।

যেভাবে তৈরি করবেন

রাইস ওয়াটার সাধারণত দুভাবে তৈরি করা যায়। সাধারণভাবে ভিজিয়ে রেখে কিংবা ফুটিয়ে। তবে চুলের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী হলো ‘ফার্মেন্টেড’ বা গাঁজানো জল। প্রথমে এক কাপ চাল একটি ছাঁকনিতে নিয়ে সাধারণ পানি দিয়ে খুব ভালো করে ধুয়ে নিন। প্রথম ধোয়ার পানিটা ফেলে দিন। এতে চালের গায়ে থাকা ধুলোবালি বা রাসায়নিক পরিষ্কার হয়ে যাবে। এবার পরিষ্কার চালগুলো একটি কাচের জারে রাখুন এবং তাতে দুই কাপ পানি দিন। চামচ দিয়ে একটু নেড়ে জারের ঢাকনাটি শক্ত করে আটকে দিন। তৃতীয় ধাপে এই জারটি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (অন্ধকার ও ঠান্ডা জায়গায়) অন্তত ৪৮ ঘণ্টা বা দুদিন রেখে দিন। অনেকেই এর কার্যকারিতা বাড়াতে ৫ দিন পর্যন্ত ফার্মেন্ট করতে রেখে দেন। চালের পানি যত বেশি ফার্মেন্ট হবে, এর পুষ্টিগুণ ততই বাড়বে।

জরুরি টিপস : চাল যখন গেঁজে ওঠে, তখন এর মধ্যে এক ধরনের টক বা তীব্র গন্ধের সৃষ্টি হয়। প্রথমবার যারা ব্যবহার করেন, অনেকেই এই গন্ধ সহ্য করতে পারেন না এবং বমি বমি ভাব বা মাথা ঘোরার সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যার সহজ সমাধান হলো এসেনশিয়াল অয়েল। জারে চাল ও পানি রাখার সময়ই আপনার পছন্দের পেপারমিন্ট বা ল্যাভেন্ডার অয়েলের ৪  থেকে ৫ ফোঁটা মিশিয়ে দিন। পেপারমিন্ট অয়েল মাথার ত্বকে ঠান্ডা অনুভূতি দেয় এবং ঔষধি সুবাসের কারণে চালের দুর্গন্ধ বোঝা যায় না।

চুলে ব্যবহারের নিয়ম

 চুল ও স্ক্যাল্প ভেজানো : প্রথমে চুল আঁচড়ে জট ছাড়িয়ে নিন। এবার জারের চাল ধোয়া পানিটি ছেঁকে একটি স্প্রে বোতলে বা বাটিতে নিন। পুরো চুল এবং মাথার ত্বকে এই পানি দিয়ে খুব ভালো করে ভিজিয়ে নিন।

 আলতো মাসাজ : আঙুলের ডগা দিয়ে বৃত্তাকার গতিতে পুরো মাথায় অন্তত ৫ মিনিট আলতোভাবে মাসাজ করুন। এতে মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং চুলের ফলিকলগুলো পুষ্টি শোষণ করতে পারবে।

 অপেক্ষা করা : মাসাজ শেষে চুলগুলো আলতো করে খোঁপা করে শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। এভাবে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন।

 ধুয়ে ফেলা : ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার দিয়ে চুল খুব ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

উপকারিতা

নিয়মিত সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে চুলে অভাবনীয় পরিবর্তন লক্ষ করবেন। জটমুক্ত চুল, সিল্কি ও নরম টেক্সচার, উজ্জ্বলতা, চুলের গোড়া মজবুত করা, দ্রুত চুল লম্বা হবে।