বিশ্বকাপে নতুন সুযোগ নতুন উন্মাদনা

ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে। এই আয়োজনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যেমন ব্যবসায়িক প্রস্তুতি চলছে, তেমনি বাংলাদেশেও খাবারের দোকান, রেস্টুরেন্ট, ডেলিভারি সার্ভিস, ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নতুন নতুন অফার নিয়ে হাজির।

রেস্টুরেন্ট ও খাবার

বিশ্বকাপের সময় সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে খাবারের ব্যবসাগুলোর। বিশেষ করে ফাস্ট ফুড, বার্গার, পিজা, ফ্রাইড চিকেন এবং কফি শপগুলো ম্যাচ দেখার আয়োজনের মাধ্যমে ক্রেতা আকর্ষণ করে। বিশে^র বিভিন্ন শহরে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বড় বড় ফ্যান জোন থাকে, যেখানে খাবারের স্টল, লাইভ স্ক্রিনিং এবং বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়। বাংলাদেশেও এরকম বেশ কিছু এলাকায় দেখা যাচ্ছে। ঢাকার অনেক রেস্টুরেন্ট ইতোমধ্যে ‘ওয়াচ পার্টি’, ‘কম্বো মিল’, ‘মিডনাইট মেনু’ এবং দলভিত্তিক ডিসকাউন্ট দিচ্ছে।

ফুড ডেলিভারি

বিশ্বকাপের অনেক খেলা বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেকেই বাসায় বসে খেলা দেখছেন। ফলে অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যস্ততা বাড়ছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশেষ অফার, ফ্রি ডেলিভারি, দলভিত্তিক কুপন এবং ‘ম্যাচ নাইট প্যাকেজ’ চালুর হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানের।  বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে সফট ড্রিংকস প্রচারণা করেছে। বিশেষভাবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে জাতীয় প্রচারণা চালু রয়েছে, যেখানে ক্রেতারা বিশেষ কোড ব্যবহার করে বিশ্বকাপের ম্যাচ অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন পুরস্কার জয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তি বাজার

বিশ্বকাপ এলেই টেলিভিশন বিক্রি বাড়ে সবসময়। বড় স্ক্রিন, স্মার্ট টিভি, সাউন্ড সিস্টেম এবং ইন্টারনেট সেবার চাহিদা বাড়ে। এ ছাড়া ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও বিশ্বকাপ প্যাকেজ চালু করেছে, কারণ অনেকেই অনলাইন স্ট্রিমে খেলা দেখেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল মার্কেটিং

বিশ্বকাপ মানেই সোশ্যাল মিডিয়ার যুদ্ধ। ব্র্যান্ডগুলো মিম, কনটেস্ট, ভিডিও কনটেন্ট এবং ফ্যান এনগেজমেন্টের মাধ্যমে নিজেদের প্রচার করে। বিশ্বকাপের সময়  ‘কে জিতবে?’, ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’, ‘স্কোর প্রেডিকশন’ ইত্যাদি কনটেন্ট ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। ফলে ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হয়।

বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নয়, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্যও বড় সুযোগ। রেস্টুরেন্ট, ফুড ডেলিভারি, সফট ড্রিংকস, ইলেকট্রনিকস, হোটেল, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটিং প্রায় সব খাতেই এর প্রভাব পড়ছে। বিশ্বজুড়ে যেমন ফ্যান জোন, ব্র্যান্ড অ্যাক্টিভেশন এবং বিশেষ প্রচারণার মাধ্যমে ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, তেমনি এই প্রতিষ্ঠানগুলোও এই বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন গ্রাহক আকর্ষণ এবং বিক্রি বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ২০২৬ বাংলাদেশের ব্যবসা খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উচ্ছ্বাস তৈরি করতে পারে।