মদ্রিচকে আকাশে উড়িয়ে ক্রোয়েশিয়ার স্বস্তির জয় উদযাপন

ম্যাচ শেষে ট্রাউজারের ওপর কালো টি-শার্ট চড়িয়ে ২৫ জন ক্রোয়াট ফুটবলার যখন শূন্যে ছুড়ে মারছিলেন তাঁদের অধিনায়ককে, তখন চারপাশের গ্যালারি গাইছিল বিদায়ের সুর—‘ওয়ান লাস্ট ড্যান্স’। সেই টি-শার্টে লেখা ছিল ‘ইনফিনিট লেগ্যাসি’ বা অনন্ত উত্তরাধিকার। উপলক্ষটা ছিল ৪০ বছরের বুড়ো লুকা মদ্রিচের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০তম ম্যাচের মাইলফলক ছোঁয়ার। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি ও কুয়েতের বদর আল-মুতাওয়ার পর চতুর্থ পুরুষ ফুটবলার হিসেবে এই অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি। তবে মদ্রিচের এই ঐতিহাসিক রাতটি দীর্ঘস্থায়ী বিষাদে রূপ নিতে পারত, যদি না দ্বিতীয়ার্ধে আন্তে বুদিমির ত্রাণকর্তা হয়ে এগিয়ে আসতেন।

টরন্টোর লেক ওন্টারিও স্টেডিয়ামে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে বুদিমিরের সেই একমাত্র গোলে পানামাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের টিকিয়ে রাখল ক্রোয়েশিয়া। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলে হেরে খাদের কিনারায় চলে যাওয়া ক্রোয়াটদের জন্য এই ৩ পয়েন্ট ছিল অক্সিজেনের মতো। অন্যদিকে, রক্ষণাত্মক ফুটবলের অনবদ্য গল্প উপহার দিয়েও টানা দুই হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশ পানামাকে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ক্রোয়াটদের চেনা ছন্দ উধাও ছিল। পানামার ৫-৪-১ ফরমেশনের জমাট রক্ষণের সামনে বারবার খেই হারাচ্ছিলেন ইভান পেরিসিচরা। উল্টো ২৩ মিনিটে জোসে লুইস রদ্রিগেজের বুলেট গতির হেড ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ কোনোমতে বারে লাগিয়ে প্রতিহত না করলে ম্যাচের গল্প অন্যরকম হতে পারত। প্রথমার্ধের মলিনতা কাটাতে বিরতির পরেই ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার জোসকো গভার্দিওলকে তুলে নিয়ে আক্রমণভাগ শক্তিশালী করেন ক্রোয়াট কোচ জ্লাতকো দালিচ।

কৌশলের সেই পরিবর্তন ফল দেয় ম্যাচের ৫৩ মিনিটে। মার্কো পাসালিচের ব্যাকহিল থেকে বল পেয়ে জোসিপ স্টানিসিচ ডানপ্রান্ত থেকে এক নিখুঁত ক্রস বাড়ান, যা চলন্ত বলের মাথায় আলতো ছোঁয়ায় জালে জড়ান সদ্য বদলি হিসেবে নামা স্ট্রাইকার বুদিমির। ম্যাচে পিছিয়ে গেলেও আক্রমণ থামায়নি পানামাও। ৬৮ মিনিটে কার্লোস হার্ভের দুর্দান্ত এক হেড লিভাকোভিচ আঙুলের ডগা দিয়ে না ঠেকালে সমতায় ফিরতে পারত তারা। শেষ পর্যন্ত লিভাকোভিচের বিশ্বস্ত গ্লাভসেই জয় নিশ্চিত হয় ক্রোয়েশিয়ার।

ম্যাচ শেষে মদ্রিচকে নিয়ে আবেগ আপ্লুত দালিচ বলেন, “লুকা খুব বিনয়ী, ও এত বড় উদযাপন পছন্দ করে না। কিন্তু আজ ৪০ বছর বয়সেও ও যেভাবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জয় এনে দিল, তা অবিশ্বাস্য। ও ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবেই অমর হয়ে থাকবে।”

এদিকে বিশ্বকাপে বিদায় নিশ্চিত হলেও ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্স আপ দলের বিপরীতে দলের লড়াকু মানসিকতায় গর্ব প্রকাশ করেছেন পানামা কোচ থমাস ক্রিস্টিয়ানসেন। “আমার মনে হয় আমরা একটা ভালো ম্যাচ খেলেছি, কিন্তু প্রাপ্তির খাতাটা বড্ড শূন্য রইল। একটা সিঙ্গেল প্লে-তেও আমাদের ভাগ্য সহায় ছিল না এবং ওরাই গোলটা পেয়ে গেল। তবে এটাই ফুটবল।” 

এই জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ক্রোয়েটদের অবস্থান ও এখন তিনে। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে শুরুর দুই জায়গায় যথাক্রমে ইংল্যান্ড আর ঘানা। আগামী শনিবার শেষ বত্রিশের টিকিট চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ঘানার মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া, আর বিদায় নিশ্চিত হওয়া পানামা খেলবে গ্রুপ সেরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।