মেট্রোরেলে ৫ মিনিটেই ফোন উধাও!

মেট্রোরেলের গেটে ভিড়ের মধ্যে ফোন হাতিয়ে স্টেশন থেকে সটকে পড়া-সব মিলে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই শেষ মোবাইল ফোন চুরির মিশন। রাজধানীর প্রতিটি মেট্রো স্টেশনে এটি এখন নিয়মিত চিত্র। ফোন চুরির পর দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় ভুক্তভোগীদের। কর্তৃপক্ষ দিতে চায় না সিসিটিভি ফুটেজ, থানাও নিতে চায় না অভিযোগ। সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন মেট্রো যাত্রীরা।

৭ জুন, রাত ৮টা ৯ মিনিটে রাজধানীর শাহবাগ মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের ভিড়। সেখানে শার্ট, প্যান্ট ও পাঞ্জাবি পরা দুই মধ্যবয়স্ক ব্যক্তির আনাগোনা দেখা যায়। দুজনের মুখে মাস্ক ও মাথায় টুপি। মিনিট খানিকের মধ্যে ট্রেন আসলে ওই দুই ব্যক্তি একজন যাত্রীকে টার্গেট করেন। টার্গেট যখন গেটে ঢুকতে যান, ঠিক সেই মুহূর্তেই দৌড়ে গেট পাল্টে ফেলে তারা। একজন ফোন নিয়ে নেয়, দিয়ে দেয় পেছনের জনকে। ফোন নিয়ে চলে যায় চোর। আর প্রথম চোরটি গেটে দাঁড়িয়ে এমন ভাব করে, যেন ট্রেন মিস হয়ে গেছে। ঘটনার মিনিট দুইয়ের মধ্যেই স্টেশন থেকে বেরিয়ে যায় তারা।

ফোন হারানো সোহেল রানা বলেন, দৌড়ে কন্ট্রোল রুমে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ চাইলে তারা বলে, জিডি করতে হবে, অন্যথায় ফুটেজ দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, মেট্রো কর্তৃপক্ষ আমাকে আর কোনো ফুটেজ দেখায়নি। ফুটেজ পেতে এক সপ্তাহ সময় লেগেছে। এটা আমার কাছে খুবই আশ্চর্য ও দুঃখজনক।

এমআরটি পুলিশের ডিআইজি সিদ্দিকী তাঞ্জিলুর রহমান বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে ফুটেজ সরবরাহ করলে আমরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারতাম। সহযোগিতা পেলে প্রতিকার সহজ হতো।

এমআরটি পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মেট্রোর ভেতর হাতেনাতে ধরা পড়েছে ৭০ জন মোবাইল চোর, উদ্ধার হয়েছে ৪৮টি ফোন। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আটক হয়েছে ৪৩ জন চোর, উদ্ধার হয়েছে ২৯টি ফোন। তবে বাস্তবে চুরির সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেট্রোরেল ঢাকাবাসীর কাছে নিরাপদ ও স্বস্তির বাহন হলেও রোজকার মোবাইল চুরির ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অভিযোগ গ্রহণে কর্তৃপক্ষের অনীহা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।