কর্ণফুলীর খাল খননের বরাদ্দ ফেরত গেল সরকারি কোষাগারে

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আওতায় বাস্তবায়নাধীন দুই খাল পুনঃখনন প্রকল্পে পরিকল্পনাহীনতা, সমন্বয় ঘাটতি ও বাস্তবায়ন জটিলতায় প্রায় দেড় কোটি টাকার বরাদ্দ ফেরত গেছে সরকারি কোষাগারে।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুজন কান্তি দাশ।

তিনি বলেন, জুন মাসের ২৪ তারিখের পর কোনো টাকা একাউন্টে রাখা যাবে না। সেজন্য ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকার প্রকল্পের মধ্যে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মাত্র ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। পরবর্তী অর্থবছরে ওই টাকা ফিরিয়ে এনে আবারও খাল খননের কাজ করা হবে,এটায় হচ্ছে নিয়ম।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিকলবাহা ও খোয়াজনগর খালের প্রায় ৮ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের বড় অংশের কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অব্যবহৃত থেকে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম,পরিকল্পনার ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলার মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রকল্প নীতিমালা অনুযায়ী অতিদরিদ্র শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও খাল খননের ক্ষেত্রে খননযন্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে। খালের প্রস্থ সংকীর্ণ হওয়ায় খননযন্ত্র (ভেকু) ঢুকাতে না পারায় কাজও এগোয়নি।

তাদের মতে, শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করলে একদিকে খাল খনন সম্ভব হতো, অন্যদিকে স্থানীয় দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হতো। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খাল খননের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মই মানেননি।

ঘটনাস্থল খোয়াজনগর ও শিকলবাহা খাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও গাছ অপসারণ ও সীমিত পরিসরে মাটি কাটার চিহ্ন থাকলেও পূর্ণাঙ্গ খাল খননের দৃশ্যমান অগ্রগতি খুবই কম। প্রায় ৫ কিলোমিটার খাল খননের বিপরীতে এখন পর্যন্ত সামান্য অংশে কাজ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইউপি সদস্য আবু তাহের বলেন, স্থানীয় নেতাকর্মীরাই খাল খননের কাজটি পেয়েছিল। খালের প্রস্থ সংকীর্ণ হওয়ায় খননযন্ত্র ঢুকাতে না পারায় কাজও এগোয়নি। অর্থ ফেরত যাওয়ায় হতাশ এলাকার মানুষ। খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল খাল খননের।

কর্ণফুলী উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সুজন কান্তি দাশ বলেন, শিকলবাহা ও খোয়াজনগর খাল পুনঃখননে প্রায় ৮ কিলোমিটার কাজের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ টাকার বরাদ্দ ছিল। তবে খোয়াজনগর খালে জোয়ার ভাটার প্রভাব ও পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় এস্কেভেটর প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি, ফলে কাজ সম্পন্ন করা যায়নি।