চট্টগ্রাম মহানগরের প্রায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষে আগামী ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মেয়র জানান, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের সাতটি ইপিআই জোনের আওতায় ১ হাজার ৩২১টি অস্থায়ী কেন্দ্রে এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে। এতে দায়িত্ব পালন করবেন ২ হাজার ৬৫৮ জন স্বেচ্ছাসেবক।
তিনি বলেন, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ৯২ হাজার শিশুকে একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪ লাখ ৭২ হাজার শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। গত বছর এ কর্মসূচির সফলতার হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এবার শতভাগ সফলতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে চসিক।
পথশিশুদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মেয়র বলেন, নিয়মিত কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ টিমের মাধ্যমে পথশিশুদেরও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে, যাতে কোনো শিশু বাদ না পড়ে। ক্যাম্পেইন শেষে কোনো শিশু ক্যাপসুল গ্রহণ থেকে বাদ পড়লে তার অভিভাবকরা নিকটস্থ ইপিআই কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে এ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নগরের কোনো শিশুই যেন এ সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মেয়র। তিনি জানান, চলতি বছরে চট্টগ্রাম মহানগরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিক নিয়মিতভাবে বিটিআই প্রয়োগসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। প্রতি শনিবার অন্তত ১০ মিনিট সময় দিয়ে বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখতে হবে। যেসব বাড়ি বা স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, নগরের ২, ৩, ১০, ১৭, ১৯ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডেঙ্গুমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত চট্টগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।