যুক্তরাষ্ট্রের অবমুক্ত করা ইরানি অর্থ কেবল মার্কিন কৃষিপণ্য কিনতে ব্যয় করা হবে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় দেশটির প্রধান প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গালিবাফ লিখেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যা দাবি করছে যে, আমাদের অবমুক্ত সম্পদ তাদের কৃষিপণ্য কিনতে ব্যবহৃত হবে।'
তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, 'আমরা যে ফসল ঘরে তুলছি, তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বপন করা কয়েক দশকের অবিশ্বাস। এটি সম্পূর্ণ দেশীয়, প্রাচুর্যময় এবং স্বাভাবিকভাবে উৎপাদিত।'
গালিবাফ আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র 'জিএমও সয়াবিন, ভঙ্গ প্রতিশ্রুতি ও কটূক্তি ছাড়া আর কিছু রপ্তানি করে না।'
সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছিলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় প্রাথমিক আর্থিক সুবিধার অংশ হিসেবে ৫০ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য ইরানে পাঠানো হবে। তার দাবি ছিল, কোনো নগদ অর্থ সরাসরি তেহরানের হাতে যাবে না; বরং অর্থটি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছ থেকে ভুট্টা ও গম কিনতে ব্যয় হবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই ধরনের মন্তব্য করে বলেন, ইরানের অবমুক্ত অর্থ শেষ পর্যন্ত মার্কিন কৃষকদেরই লাভবান করবে এবং ইরানের জনগণের খাদ্য চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হবে।
তবে ইরানি গণমাধ্যমগুলো ওয়াশিংটনের এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এই সমঝোতা ইরানের জন্য সাফল্য, কোনো ছাড় নয়।
ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে গালিবাফ বলেন, সমঝোতা স্মারকে এমন কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, যা ইরানকে মার্কিন পণ্য কিনতে বাধ্য করে। তিনি এটিকে 'যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা' বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে সোমবার ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উদীয়মান সমঝোতার আওতায় অবমুক্ত হওয়া অর্থ শুধু জরুরি পণ্য আমদানিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকটি গত ১৮ জুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে কার্যকর হয়। তবে এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও শর্তাবলি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এখনও চলছে।