স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা

আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট, ৬ আসামিকে অব্যাহতি 

চট্টগ্রামে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে থানা পুলিশ, ডিবি, পিবিআই, সিআইডি'র তদন্তে আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিন হত্যার শিকার হয়েছেন এমন কোন প্রমাণ পায়নি। সবশেষ এই হত্যা মামলার তদন্ত শেষে গত ১১ জুন ‘তথ্যগত ভুল’ মর্মে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেছেন নগর পুলিশের কর্ণফুলী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জামাল উদ্দিন চৌধুরী।

আদালত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাদী পক্ষ নারাজি না দেওয়ায় চূড়ান্ত রিপোর্ট গ্রহণ করে অভিযুক্ত ছয় আসামিকে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলাটি নথিজাত করার আদেশ দেন আদালত।

এরআগে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি তাসফিয়া হত্যা মামলায় সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় আদালতে। এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন মামলার বাদী তাসফিয়ার বাবা মো. আমিন। এরপর আদালত তাসফিয়া হত্যা মামলার পুনরায় তদন্তের জন্য পতেংগা থানাকে নির্দেশ দেন। আদালতে নির্দেশে মামলার সবশেষ তদন্ত করেন সিএমপির কর্ণফুলী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার জামাল উদ্দিন চৌধুরী। 

২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি সিআইডি'র দাখিল করা তাসফিয়া হত্যা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পানিতে ডুবে তার (তাসফিয়া) মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত না হওয়ায় ছয় আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও এই হত্যা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল। সেগুলোতেও বলা হয়েছিল একই কথা।

২০১৭ সালের ১ মে নগরের গোলপাহাড় মোড় থেকে অটোরিকশায় চড়ে বাসায় যাওয়ার কথা থাকলেও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় চলে যায় নগরের একটি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসফিয়া আমিন। পরদিন সৈকতে তার মরদেহ পায় পুলিশ। তাসফিয়া কোন অটোরিকশায় চড়ে পতেঙ্গায় পৌঁছেছিল, সেই গাড়ির হদিস পায়নি পুলিশ।

ঘটনার পর তাসফিয়ার বাবা মো. আমিন নগরের পতেঙ্গা থানায় ছয়জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিরা হলেন- মেয়ের বন্ধু আদনান মির্জা, মো. সোহাইল, শওকত মিরাজ, আসিফ মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও মো. ফিরোজ। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানের সবাই জামিনে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার দিন কাউকে না বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায় তাসফিয়া আমিন। বন্ধু আদনান মির্জার সঙ্গে গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল নামে একটি রেস্টুরেন্টে যায়। সেখান থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে বের হয়ে একা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাসফিয়া। এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে জিইসি মোড়ের ২০ কিলোমিটার দূরে পতেঙ্গা নেভালে কর্ণফুলী নদীর তীরে তার মরদেহ পাওয়া যায়।