গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ সময়ে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত ও হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২০ জুন পর্যন্ত ইসরায়েল অন্তত ৩,৩৩৮ বার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ, সরাসরি গুলি এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযান।
একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১,০৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩,৩০৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকালের মধ্যে- ৯২১ বার বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। ১,১০৯ বার গাজায় বোমা হামলা ও গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। ৯৭ বার “ইয়েলো লাইন” অতিক্রম করে আবাসিক এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। ২৭৩ বার মানুষের ঘরবাড়ি ও সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ১০০ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকালের ২৬০ দিনের মধ্যে ২৩৪ দিনই গাজায় হামলা বা সহিংস ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, অর্থাৎ খুব কম দিনই ছিল যখন কোনো হামলা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
মানবিক সহায়তা প্রবেশেও বাধা
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী গাজায় মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, নির্ধারিত ১,৫০,৬০০ ট্রাকের মধ্যে মাত্র ৫৪,০২৩টি ট্রাক প্রবেশ করতে পেরেছে, যা মোটের প্রায় ৩৬ শতাংশ।
এছাড়া খাদ্য সহায়তা প্রবেশেও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য ও সবজির মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। এর পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে অপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।