ইউরোপের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কিংবা অন্যান্য ‘হাইব্রিড হামলা’ চালাতে পারে রাশিয়া বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তের দুটি সদস্যদেশ। তাদের দাবি, ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি এবং ন্যাটোর ঐক্য ও প্রতিক্রিয়া যাচাই করতেই মস্কো এমন পদক্ষেপ নিতে পারে।
লাটভিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে রাশিয়া বাল্টিক অঞ্চল অথবা পোল্যান্ডকে কেন্দ্র করে সামরিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নয়, বরং সীমিত পরিসরের ‘হাইব্রিড হামলা’ হতে পারে।
সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, রাশিয়ার পক্ষে বর্তমানে দ্বিতীয় একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধফ্রন্ট খোলা সম্ভব নয়। তাই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন হামলা কিংবা অন্যান্য সীমিত সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলোকে এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে যে, ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখলে তাদেরও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ন্যাটোর আরেক সদস্যদেশের এক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক সূত্রও একই ধরনের তথ্যের কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বাল্টিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়ার মতো ছোট সদস্যদেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি কতটা দৃঢ়, সেটিও যাচাইয়ের চেষ্টা হতে পারে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গদানস্কে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলন শেষে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। এ কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতি প্রয়োজন।
পশ্চিমা বিভিন্ন সূত্রের ধারণা, ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার অগ্রযাত্রাও অনেকটাই থেমে যাওয়ায় যুদ্ধের গতিপথ নিজেদের পক্ষে ফেরাতে ক্রেমলিন বিকল্প কৌশল খুঁজতে পারে।
চ্যাথাম হাউসের রাশিয়া বিশেষজ্ঞ কিয়ার জাইলসের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির ধারা বদলাতে মস্কো অন্য অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাঁর ভাষায়, রাশিয়া নীরবে পরাজয় মেনে নেবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
সম্প্রতি ইউক্রেন প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরের রুশ ভূখণ্ডে ড্রোন হামলার সক্ষমতা দেখিয়েছে। গত সপ্তাহে প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কোর বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে। একটি তেল শোধনাগারে হামলার পর রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় কালো তেলের বৃষ্টি হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
একজন পশ্চিমা সামরিক সূত্রের মতে, মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে যুদ্ধের প্রভাব দৃশ্যমান হওয়ায় প্রেসিডেন্ট পুতিন যদি নিজেকে চাপে মনে করেন, তাহলে রাশিয়ার পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড হামলার’ বিষয়ে বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের কোনো ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি।
সূত্র: গার্ডিয়ান