এনবিআরের রাজস্ব আদায় ৪ লাখ কোটি ছাড়াবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি)। গত চার মাসে এনবিআরের কার্যক্রমে যে গতিশীলতা এসেছে, তার ফলেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

শনিবার (২৭জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘বাজেটের সুফল পেতে অর্থের যোগান ও বাস্তবায়ন দক্ষতা’ বিষয়ে ছায়া সংসদ বিতর্কে এ কথা জানান জোনায়েদ সাকি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র চার মাসে এনবিআরে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই গতিশীলতায় রাজস্ব সংগ্রহ ৪ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। আগামাী ৩০ জুন অর্থবছর শেষ হলে সম্পুর্ণ হিসেব দেখা যাবে। তখন এ অঙ্ক আরও কিছুটা বাড়বে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ বর্তমান অবস্থান থেকে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব কোনো প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বাজেট প্রস্তাবে অর্থায়নের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এটি একটি নীতিগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। আমাদের লক্ষ্য শুধু যারা ইতোমধ্যে কর দিচ্ছেন, তাদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি করা নয়। বরং কীভাবে করের ভিত্তি আরও বিস্তৃত করা যায়, কীভাবে আরও বেশি মানুষকে করের আওতায় আনা যায়, সেটির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন নাগরিক যখন কর দেন, তখন তার জবাবদিহি দাবি করার অধিকারও আরও শক্তিশালী হয়। সেই জায়গা থেকেই করের ভিত্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানো এবং একই সঙ্গে নাগরিকের অধিকার ও রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করার নীতিই এবারের বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে।

ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার চাইলেই ঋণের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। কারণ, আগের সরকারের নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধের দায় বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। বাজেটের আকার বড় হওয়ায় ঋণের পরিমাণও বড় দেখাতে পারে। তবে শতাংশের হিসাবে দেখলে ঋণনির্ভরতা কমানো হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যাংকঋণের হার কম রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

ডিবেট ফর ডেমাক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী সরকারের ভুলনীতি, অনিয়ম, দুর্নীতির কারনে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি ভেঙ্গে পড়েছিলো। সে সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সুশাসনের অভাবে বাজেটের প্রত্যাশিত সুফল জনগন পায়নি। বাজেটের সুফল পেতে অর্থের যোগান যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি এর বাস্তবায়ন দক্ষতাও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে বাজেটের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না করে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে ব্যপক দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে চলে গিয়েছিলো। ভালো ব্যবসায়ীরা পুঁজি পায়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় দুর্নীতির লক্ষ্যে বিদ্যুত ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির কাছে ইজারা দেয়া হয়েছিলো। ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকার প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। অংশগ্রহণকারী দলকে প্রতিযোগিতা শেষে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।