মাঠের ফুটবল আর মাঠের বাইরের বিতর্ক—দুইয়ে মিলেই জমজমাট ২০২৬ বিশ্বকাপ। মেক্সিকো ও কানাডার সাথে যৌথভাবে এবার বিশ্বমঞ্চের স্বাগতিক হলেও মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টিই অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। তবে এখানেই থামতে চাইছে না পরাশক্তি দেশটি। টুর্নামেন্টের সিংহভাগ ম্যাচ এককভাবে আয়োজন করার সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এবার ২০৩৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ এবার এককভাবে নিজেদের ডেরায় নিয়ে আসার বড় স্বপ্ন দেখছে তারা। হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু গিলিয়ানো সম্প্রতি এই আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন। তবে তাদের এই বড় স্বপ্নের মাঝেই চলমান আসরে একের পর এক বিতর্কে বিদ্ধ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এবারের আসরে ৪৮ দলের টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে গিয়েই আকাশচুম্বী ভ্রমণ খরচ এবং টিকিটের চড়া মূল্য নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছে দেশটির প্রশাসন। বিতর্ক উঠেছে হাইড্রেশন ব্রেক ও সেখানে বিজ্ঞাপনের আর্থিক ফাঁদ নিয়েও। শুধু তাই নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে টুর্নামেন্টের আগে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দর্শকদের জন্য 'ভ্রমণ সতর্কতা' জারি করেছিল। এমনকি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ইরান ফুটবল দলের স্টাফদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না দেওয়ায় শেষ মুহূর্তে তারা নিজেদের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এতসব বিতর্ক আর অব্যবস্থাপনার সমালোচনা স্বত্বেও ২০৩৮ সালের আসর নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী হোয়াইট হাউস।
ফিফা আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ থেকেই দলের সংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার কথা ভাবছে। গিলিয়ানোর মতে, দল বাড়লেও বিপুল অবকাঠামোগত সুবিধার কারণে যুক্তরাষ্ট্র একাই তা সামলাতে পারবে। এই বিষয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথেও আলোচনা করেছেন। গিলিয়ানো বলেন, “বিশ্বকাপের মতো আসর এককভাবে আয়োজন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে উপযুক্ত দেশ আর নেই। যেখানে অন্য দেশের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে নতুন স্টেডিয়াম বানাতে হয়, সেখানে আমাদের সব তৈরিই আছে। তবে আগামী ১৯ জুলাই ফাইনাল শেষ হওয়ার আগে আমরা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব (বিড) তুলছি না।”
এদিকে ফুটবল বিশ্বের পরবর্তী দুটি আসরের ভেন্যু ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করে রেখেছে ফিফা। যেখানে ২০৩০ সালের শতবর্ষী বিশ্বকাপটি যৌথভাবে আয়োজন করবে তিন মহাদেশের তিন দেশ; মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন (পাশাপাশি উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে)। আর ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজন করার দায়িত্ব পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। এই দুটি আসরের ভেন্যু নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় ২০৩৮ সালের আসরটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী বড় লক্ষ্য।