বেতন বাড়লেও ভাতায় আসতে পারে পরিবর্তন, চূড়ান্ত হচ্ছে নবম পে স্কেল

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে খসড়া গেজেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সমন্বিতভাবে শেষ মুহূর্তের প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা।

নতুন এই বেতন কাঠামোয় মূল বেতন কত শতাংশ বাড়ানো হবে, তা নিয়ে সচিব পর্যায়ে তিনটি ভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। প্রথম প্রস্তাবে সব গ্রেডের মূল বেতন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে। তৃতীয় প্রস্তাবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিভিন্ন ভাতার কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় বাড়িভাড়া ভাতা পুনর্বিবেচনা এবং চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়ক ও যাতায়াত ভাতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে ছোট কিছু ভাতা বাতিল বা সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। অর্থ বিভাগের মতে, বেতন বৃদ্ধি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে একটি যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই কৌশলী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় রেখে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন পে স্কেলের একটি বড় সুখবর হলো, লিভ প্রিপারেটরি টু রিটায়ারমেন্ট বা এলপিআর ভোগরতরাও নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। ফলে অবসরোত্তর জীবনে থাকা ব্যক্তিরাও নতুন এই সুবিধার অংশীদার হবেন। সব মিলিয়ে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার একটি সমন্বিত রূপরেখা চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে।